লালমোহন
ইউসুফ আহমেদ, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪ ০৯:১০ এএম
প্রধান শিক্ষকবিহীন লালমোহন উপজেলার দেবীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
ভোলার লালমোহন উপজেলায় ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। এসব বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এ ছাড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলা। এই উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়াতে রয়েছে ২১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৬টি বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। এ ছাড়া শূন্য রয়েছে ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদও। এতে ওইসব বিদ্যালয়ে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া দিন দিন বিদ্যালয়গুলোতে কমছে শিক্ষার গুণগত মান।
প্রধান শিক্ষকবিহীন কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাচ্ছেন। তারা বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি আমাদের মতোই একজন সহকারী শিক্ষক। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা শিক্ষককে বিদ্যালয়ের অন্য সহকারী শিক্ষকদের সঠিকভাবে পরিচালনা করতে গিয়ে চরম বেগ পেতে হচ্ছে। অনেক সহকারী শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা মানতে অনীহা প্রকাশ করেন। যার ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটছে। তাই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ন খুবই জরুরি।
প্রধান শিক্ষক নেই এমন একটি প্রতিষ্ঠান দেবীরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টির অভিভাবক মহিউদ্দিন, হুমায়ুন ও কবির বলেন, এই বিদ্যালয়ে যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন, তিনি মূলত এই বিদ্যালয়েরই একজন সহকারী শিক্ষক। বেশিরভাগ সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে বিদ্যালয়ে নিয়মিত আসতে পারেন না। এ ছাড়া বিদ্যালয়ে অন্যান্য সহকারী শিক্ষকও তার নির্দেশনা সঠিকভাবে মানছেন না। ফলে তাদের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় সমস্যা হচ্ছে। তাই দ্রুত এসব বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ন করে শিক্ষার গুণগত মান ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানান তারা।
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান মিলন বলেন, আমাদের উপজেলার ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। এতে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য আমরা এরই মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রধান শিক্ষক পদায়নের জন্য একটি তালিকা পাঠিয়েছি। কর্তৃপক্ষ ওই তালিকা অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদায়ন করলেই বিদ্যালয়গুলোতে চলমান সমস্যা কেটে যাবে। আশা করছি, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক পদায়ন করবে।
এই শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক ছাড়াও লালমোহন উপজেলায় এখনও ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আমরা সহকারী শিক্ষকের ওইসব পদ পূরণের জন্যও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠিয়েছি। সামনে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হলেই উপজেলার যেসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নেই, তা পূরণ হবে। আশা করছি, এরপর শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় আর কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।
উপজেলায় ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়ে ভোলা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, যেসব শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষকের পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ছাড়া ৬৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, অধিদপ্তর আমাদের থেকে শূন্যপদের তালিকা নিয়েছে। সরকার নিয়োগ দিলেই শূন্যপদ পূরণ হবে।