চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল
চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৮:৫৬ পিএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৫ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু জ্বরে নিহত গৃহবধূ মুক্তা খাতুন সাথে তার ভাই মনিরুল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বেডে।
চুয়াডাঙ্গায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। গৃহবধূ মুক্তা খাতুন চুয়াডাঙ্গা শহরের শেকড়াতলা মাঝের পাড়ার মাসুদ রানা রিন্টুর স্ত্রী। তার দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এদিকে সদরে গত ১৫ দিন ধরে ডেঙ্গু পরীক্ষার আইজিজি, আইজিএম ডিভাইস নেই। এ পর্যন্ত ৩ বার চাহিদা দিয়েও পাওয়া যায়নি বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
মুক্তা খাতুনের ভাই মনিরুল বলেন, ১২ দিন আগে জ্বর হলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করি। সেখানে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি ছিল। চার দিন আগে জ্বর ভয়াবহ হলে কুষ্টিয়া মেডিকেলে নিই। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেলে দু'দিন ভর্তি ছিল। এরপর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন বলেন, ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মুক্তা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেলে পাঠানো হয়। তবে ডেঙ্গু জ্বরে তার লিভার ড্যামেজ হয়ে গিয়েছিল। এজন্য তিনি মারা গেছেন।
সদর হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জ আমজাদুল ইসলাম জানান, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেউ হাসপাতালে এলে তাকে প্রাথমিকভাবে এনএসওয়ান পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না তা ধরা পড়ে। এরপর জ্বর ১ থেক ৩ দিন সর্বোচ্চ ৫ দিন পর্যন্ত হলে আইজিজি এবং আইজিএম পরীক্ষা না করলে ডেঙ্গু পজিটিভ কি না ধরা পড়ে না। গত ১৫ দিন হলো সদর হাসপাতালে আইজিজি, আইজিএম ডিভাইস শেষ হয়ে গেছে। এ পর্যন্ত ৩ বার চাহিদা দিয়েও পাওয়া যায়নি। তিনি আরও জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে গত ১ মাসে ২৫৬ জন রোগী পরীক্ষা করানো হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ জন ডেঙ্গু পজিটিভ হয়েছে। এ ছাড়া গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু পজিটিভ রোগী ভর্তি রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
সার্বিক বিষয়ে সিভিল সার্জন সাজ্জাৎ হাসান বলেন, হাসপাতালের কোনো বিষয় জানি না। হাসপাতালের ওষুধ, পরীক্ষার ডিভাইস, রোগীর চিকিৎসা এসব তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব।