ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:১৫ এএম
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৩ পিএম
শ্রীমঙ্গল উপজেলার খোশবাস গ্রামে নিজের মুরগির খামারে সফল উদ্যোক্তা জমির উদ্দিন। প্রবা ফটো
শৈশব থেকেই পশুপাখি, হাঁস-মুরগির প্রতি ছিল তার অগাধ ভালোবাসা। সেই ভালোবাসাকে পেশায় রূপ দিয়ে পেয়েছেন দারুণ সফলতা। ইউটিউব দেখে মিসরীয় ফাউমি জাতের মুরগির খামার গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। লেখাপড়ার পাশাপাশি মাত্র ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে গত এক বছরে আয় করেছেন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা।
বলছি মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউনিয়নের খোশবাস গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে অনার্স পড়ুয়া জমির উদ্দিনের কথা। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তিনি।
বাবা-মায়ের বড় ছেলে হিসেবে এসএসসি পাস করার পরই পরিবারের হাল ধরেন। লেখাপড়া ও সংসারের খরচ জোগাতে জমির নিজ এলাকায় মুদি দোকান দেন। ব্যবসায় আয়ও হচ্ছিল বেশ। তবে উদ্যোক্তা হবার সুপ্ত বাসনায় তিনি ইউটিউবে বিভিন্ন ধরনের খামারের ভিডিও দেখতে থাকেন। এভাবে একদিন পেয়ে যান ফাউমি জাতের মুরগি লালন-পালন ও খামারের ভিডিও। অনেকটা দেশি মুরগির মতো এ জাতটি সম্পর্কে জানার পর তিনি ২০২৩ সালের শেষের দিকে নিজ এলাকায় একটি ব্রয়লার শেড ভাড়া নেন।
এরপর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রামের সুজন মিয়া থেকে মিসরীয় ফাউমি জাতের ২ হাজার ১০০ মুরগির বাচ্চা দিয়ে শুরু করেন শ্রীমঙ্গলের প্রথম ফাউমি মুরগির খামার। খামারের নামকরণ করেন ‘লতিফিয়া ফাউমি ফার্ম’। চার মাস পর প্রথম দফার মুরগি বিক্রি করে দ্বিতীয় দফায় বাচ্চা আনেন। এভাবে এক বছরে তিনবার বাচ্চা উত্তোলন করেন নিজ খামারে। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে সাড়ে তিন হাজার মিসরীয় ফাউমি জাতের মুরগি।
আলাপকালে জমির উদ্দিন বলেন, ‘পরিবারের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে পড়ালেখার পাশাপাশি কিছুদিন মুদি দোকানের ব্যবসা করি। পরে সিদ্ধান্ত নিই উদ্যোক্তা হব। ইউটিউবে নানা ভিডিও দেখি। এসব ভিডিও দেখে সিদ্ধান্ত নিই মিসরীয় ফাউমি জাতের মুরগির খামার করব। তবে আমার খামার করার যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। খামার করতে হলে অনেক পুঁজির প্রয়োজন হয়। আমার কাছে এত টাকা ছিল না। পরিবারের সহযোগিতায় গত বছরের শেষদিকে ২ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে মিসরীয় ফাউমি জাতের মুরগির খামার শুরু করি। ২ হাজার ১০০ মুরগির বাচ্চা নিয়ে খামারের যাত্রা শুরু। এখন মুরগির সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০। এক বছরে তিন চালান মুরগি ও কিছু ডিমও বিক্রি করেছি। বর্তমানে খামারের মোট পুঁজি সাড়ে ৭ লাখ টাকা। যদি খামারটি আরও বড় পরিসরে নিজস্ব জায়গায় করতে পারি তাহলে পুরোপুরি স্বাবলম্বী হতে পারব।’
খোশবাস গ্রামের বাসিন্দা গণমাধ্যমকর্মী শাকির আহম্মেদ বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তা জমির উদ্দিন শিক্ষিত যুবক। পড়ালেখা শেষ করে চাকরির অপেক্ষা না করে ছাত্রাবস্থা থেকেই শুরু করেছেন ব্যবসা। তার প্রতিষ্ঠিত ফাউমি মুরগির খামার পুরো শ্রীমঙ্গল উপজেলার মধ্যে প্রথম ও একমাত্র। জমির উদ্দিন লেখাপড়ার পাশাপাশি খামার করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ দেখিয়েছেন। তরুণদের উচিত তাকে অনুসরণ করা।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা লতিফিয়া ফাউমি ফার্মের সফলতায় বেশ আনন্দিত। তিনি এ অঞ্চলের বেকার যুবকদের জন্য আইডল। আমাদের কাছে কেউ এ ধরনের খামার করার পরামর্শ চাইলে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করতে চাই।’