রহিম শুভ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৪২ পিএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:৪৯ পিএম
নতুন প্রজন্মকে ঘোড়দৌড়ে আগ্রহীসহ গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় যেন ইতিহাস-ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে লালসাদা ঘোড়া ছুটেছে প্রাণপণে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) বিকালে জেলার সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়ন বিএনপি পূর্ব শাখার আয়োজনে ফাড়াবাড়ি এতিমখানা মাঠে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে ভিড় জমায় উপজেলার আশপাশের গ্রাম ও দূরদূরান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার দর্শনার্থী।
খেলায় পঞ্চগড়, দিনাজপুর, শরীয়তপুরসহ কয়েকটি জেলার প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন। এ-বি-সিÑ তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ৪০ জন প্রতিযোগী খেলায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপ ফাইনালে অংশগ্রহণ করলে ‘বি’ গ্রুপের হর্সপাওয়ার চ্যাম্পিয়ন হয়।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মানিকের সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিন, সদর যুবদলের সভাপতি রেজাউল করিম লিটন।
প্রায় এক যুগ পর ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখে উচ্ছ্বসিত দর্শনার্থীরা। প্রতি বছরে এমন আয়োজনের দাবি তাদের। আয়োজন গ্রামীণ পরিবেশে ছিল এক বিশাল উৎসব।
সদর ভেলাজান থেকে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসা জিলানি বলেন, পাশের জেলা পঞ্চগড় আর দিনাজপুরে এ ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা হয়। এবার আমাদের জেলায় এর আয়োজন দেখে অনেক ভালো লাগল। বিভিন্ন রঙের ঘোড়ার অংশগ্রহণে আর সবাই প্রথম হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় দৌড়াচ্ছে এ যেন এক অভাবনীয় দৃশ্য। হইহুল্লোড় আর চিৎকারে মধ্যবয়সেও যেন তারুণ্যের উত্তাপ পেয়েছি।
আলেমা আক্তার বলেন, আমার বাড়ির পাশেই এ আয়োজন। কয়েকদিন ধরে মাইকিং আর মাঠ সাজানো হচ্ছে প্রতিযোগিতার জন্য। এই প্রথম আমি এমন প্রতিযোগিতা দেখলাম। দেখে অনেক ভালো লাগল। আমরা চাই প্রতি বছর যেন এমন আয়োজন করা হয়।
পঞ্চগড় দেখে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা দেখতে আসা রাফসান বলেন, এই প্রতিযোগিতা দেখতে ভালো লাগে, তাই অনেক দূর থেকে এসেছি। আমার মতো কয়েক হাজার দর্শনার্থী প্রতিযোগিতাটি উপভোগ করেছে। সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঘোড়দৌড় দেখতে পেরে আমরা সবাই আনন্দিত। হারিয়ে যাওয়া এই খেলাগুলো যেন সব সময় আয়োজন করা হয়।
‘বি’ গ্রুপের প্রতিযোগী নাজমুল হক বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৪০টি ঘোড়ার মধ্যে আমরা বিজয়ী হয়েছি। আসলে পুরস্কার কোনো বিষয় না, খেলতে আমরা আনন্দ পাই। দেশের বিভিন্ন জেলায় আমরা যাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে। হাজার হাজার মানুষ দেখতে আসে এই খেলা, তাদের শোরগোল আমাদের উৎসাহ জোগায়।
জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, যেকোনো খেলা মানুষের মাঝে একটি বন্ধন সৃষ্টি করে। আয়োজনে অনেক মানুষের উপস্থিতি হয়েছে। ঘোড়দৌড় গ্রামীণ একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। ডিজিটালের বাহুল্যতায় হারিয়ে যাওয়া এসব খেলা সবার উদ্যোগে টিকিয়ে রাখতে হবে।
প্রতিযোগিতা আয়োজন কমিটির সভাপতি মানিক বলেন, ১২ বছর আগে এই মাঠে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল, এরপর আর হয়নি। বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই খেলা এবার আমি নিজে আয়োজন করি। এটা আমাদের গ্রামীণ একটি ঐতিহ্য। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিযোগীরা এই খেলায় অংশ নিয়েছেন। দর্শনার্থীদের হইহুল্লোড় ও উৎসাহে যেন আয়োজনটি সফল হয়েছে। এখন থেকে সবার সহযোগিতায় আমি প্রতি বছরই এমন আয়োজনের চেষ্টা করব।