হিলি (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৩:৪৩ পিএম
ধান শুকানো ব্যস্ত এক গৃহবধূ। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের হিলিতে আমন ধান কাটা-মাড়াই আর সিদ্ধ-শুকানোয় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ধানের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবং বাজারে দাম থাকায় খুশি তারা।
এদিকে ধান কাটা শেষে আবারও জমি প্রস্তুত করে সেখানে আলু ও সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন অনেক কৃষক। ইতোমধ্যে অনেকেই আলু চাষের জন্য জমি তৈরি করে বীজ রোপণও করেছেন।
হাকিমপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠে মাঠে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কেটে রাখা সোনালি রঙের ধান। ধান কেটে আঁটি বেঁধে সপ্তাহখানেক খোলা মাঠে ফেলে রাখছেন কৃষক। দূর থেকে দেখলে যে কারোরই মনে হবে মাঠে যেন সোনা ছড়িয়ে রয়েছে। পরে কৃষক ধানের সঙ্গে খড় শুকিয়ে তা বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। মাঠ থেকে ধান তোলার সঙ্গে আলু চাষের জন্য জমিতে ফেলা হচ্ছে গোবর সার। এবার বিঘাপ্রতি ধান কাটা-মাড়াইয়ে কৃষকের খরচ হচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা।

হাকিমপুর উপজেলার নওনাপাড়া গ্রামের কৃষক শেখ আলী হোসেন বলেন, এবার আমি ৬ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বর্ষার পানির উপর নির্ভর করে আমন ধান চাষ করা হয়। আমন মৌসুমে বর্ষার পানি পর্যন্ত পাইছি। আল্লাহ দিলে ফলন ভালো হয়েছে।
সাদুরিয়া গ্রামের কৃষক মোকাব্বের হোসেন বলেন, এক বিঘা জমি চাষ করেই আমার সংসার চলে। ছেলে-মেয়ে নেই, দুই জনের সংসার। আমার জমিতে সবচেয়ে ভালো ধান হয়েছে। সামান্য জমি আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে চাষাবাদের কাজ করি। ধান কাটছি, এখন আলু চাষ করবো। আশা করি ১৮ থেকে ২০ মণ ধান পাবো।
ধান কাটা শ্রমিকরা জানান, ধান কাটার সময় এবার বর্ষা নেই ফলে মাঠেও কোনো পানি নেই। আমাদের ধান কাটতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমরা ১১ জন এক সঙ্গে ধান কাটছি। ধান কাটা-মাড়াইতে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নিচ্ছি। দিনে দেড় থেকে দুই বিঘা জমির ধান কাটতে পারছি।
হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা কৃষি অফিসার আরজেনা বেগম বলেন, হাকিমপুর উপজেলায় ৮ হাজার ১১৭ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। আলু চাষের জন্য কৃষকেরা তাড়াতাড়ি ধান কাটছেন। আমন ধানের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আশা করছি কৃষক তাদের কাঙ্খিত ফলন সময় মতো ঘরে তুলবেন।