ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:২৪ এএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ১০:৪০ এএম
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চন্দনকে গ্রেপ্তার। প্রবা ফটো
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রধান আসামি চন্দনকে গ্রেপ্তার করেছে ভৈরব থানা পুলিশ। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় ভৈরব রেলওয়ে জংশন এলাকার পানির ট্যাংকির পাশ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চন্দন চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানার মেথরপট্টি সেবক কলোনি বান্ডেল রোড এলাকার বাসিন্দা।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, চট্টগ্রামে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৬ নভেম্বর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানায় চন্দনকে প্রধান করে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন।
মামলার পর সারা দেশের প্রশাসন বিশেষ তৎপরতা চালায়। ৪ ডিসেম্বর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে চন্দনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীন বলেন, চন্দন ভৈরব সুইপার কলোনিতে তার শ্বশুর নন্দু বর্মণের বাড়িতে যাওয়ার জন্য এসেছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনে এসে ভৈরব স্টেশনে পানির ট্যাংকির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্বশুরবাড়ি আসবেন বলে। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়। চন্দনকে চট্টগ্রাম কোতোয়ালি থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হবে।
জানা যায়, ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাসকে কারাগারে নিয়ে যায়। বিক্ষোভকারীরা আদালত সড়কে রাখা বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও যানবাহন ভাঙচুর করে। এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
প্রধান আসামি চন্দন ছাড়াও মামলার আসামিরা হলেন কোতোয়ালি থানার বান্ডেল রোড সেবক কলোনি এলাকার বাসিন্দা আমান দাস, শুভকান্তি দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত, রুমিত দাস, নয়ন দাস, গগন দাস, বিশাল দাস, ওমকার দাস, বিশাল, রাজকাপুর, লালা, সামির, সোহেল, শিবকুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, দুর্লভ দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য।