শীতের আগমন
বেতাগী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৪২ পিএম
লেপ-তোশক বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। মঙ্গলবার বেতাগী বাজার থেকে তোলা।
দরজায় কড়া নাড়ছে শীত। ভোরের আলো ফুটলেই দেখা মিলছে কুয়াশা, শিশিরের। দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন লেপ-তোশক তৈরির কারিগররা। এক মুহূর্তের সময় যেন তাদের হাতে নেই। ভিড় বেড়েছে লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে।
ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, অগ্রহায়ণের মধ্যভাগ অতিক্রম করলেও শীত জেঁকে বসেনি। কখন শীত নেমে যায় বলা যায় না। তাই শীতের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন সবাই।
পৌর শহরের একাধিক দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রকারভেদে গার্মেন্টস তুলা ৫০ থেকে ১০০ টাকা, ফোম তুলা ২০০, শিমুল তুলা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে তুলার বাজার দরে ৪ থেকে ৫ হাত একটি তোশকের প্রকারভেদে খরচ পড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা। ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাত একটি লেপের খরচ পড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা।
লেপ-তোশক তৈরির কারিগর মো. জুয়েলসহ কয়েকজন জানান, অনেকে প্রতি বছর শীতের আগেই নতুন লেপ ও তোশক বানাতে আসেন। শীত অনুভূত হওয়ায় নতুন তৈরির পাশাপাশি পুরোনো লেপ-তোশক মেরামতের কাজ পুরোদমে চলছে। তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ পেশার জড়িত শুধু কারিগর ও দোকানিরাই নয়, রয়েছে অন্য পেশারও লোকজন। এমনই একজন ভ্যানচালক সরোয়ার হোসেন বলেন, শীত আসায় সতর্ক ও সাড়া পড়েছে উপকূলীয় এ জনপদে। ফলে কাজে কোনো ফুরসত নেই। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও বাজার থেকে ক্রেতাদের লেপ-তোশক দিয়ে আসতে হয়।
পৌরশহরসহ বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের কাজীর হাট, কাউনিয়া বাজার, বদনীখালী বাজার, কাজিরাবাদের চান্দখালী বাজার, মোকামিয়ার মোকামিয়া বাজার, সড়িষামুড়ির মায়ারহাট ও বিবিচিনির গড়িয়াবুনিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বেচাকেনার ফাঁকে কথা হয় বেতাগী বাজারের দোকানি মো. জাহিদ, মোকলেচুর রহমান, মোহাম্মদ শাহজালাল ও গেন্দু মল্লিকসহ কয়েকজনের সঙ্গে। তরা জানান, শীত পড়ায় কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। অনেকেই লেপ-তোশক তৈরি ও মেরামতের জন্যে পুরাতনগুলো নিয়ে আসছেন। তাদের ব্যবসা জমজমাট থাকে হেমন্তের শুরু থেকে পুরো শীত মৌসুম। বছরের অন্য সময় কমবেশি তোশক তৈরির কাজ চলে। তবে শীতকালের মতো এতটা জমজমাট নয়।
বেতাগীর প্রবীণ কারিগর আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বছরের বেশিরভাগ সময়ই আমাদের বসে থাকতে হয়। শীতের তিন মাস সিজন, এ সময়ে ব্যস্ততা বেশি থাকে। এবারে আগেভাগেই মৌসুম চলে এসেছে। লেপ-তোশক তৈরির কাজের চাপ বেড়েছে। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদামতো ডেলিভারি দিতে হচ্ছে। একেকজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে ৪-৫টি করে লেপ বানাতে পারে। এতে ৫০০-৬৯৯ টাকা আয় হয়। বর্তমানে এ আয় দিয়ে চলতে হিমশিম খেতে হয়।’
নারী কারিগর লাইজু বেগম বলেন, ‘পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ কাজ করতে হয়। কাজ করতে গিয়ে তুলার ধুলাবালি নাকের মধ্যে ঢুকে অ্যাজমাসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে হয়। তবুও এ কাজ করতে হয়। অন্য কোনো উপায় না থাকায় পারিশ্রমিক হিসেবে যে টাকা পাই তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকি।