জুয়েল সাহা বিকাশ, ভোলা
প্রকাশ : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৩৮ পিএম
আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৭:৪৭ পিএম
ভোলায় জরুরি রোগী পরিবহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের মালিক ও চালকরা সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ ভোলা জেনারেল হাসপাতালের আশপাশের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের কারণে মাঝেমধ্যেই ঘটছে দুর্ঘটনা। পুলিশ বলছেন ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন অ্যাম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রোগী, তাদের স্বজন ও হাসপাতালের আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোগী পরিবহনের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ও তার আশপাশে ২৫-৩০টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এর বেশিরভাগই ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন আবার কয়েকটির চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু রোগীর স্বজনরা প্রকৃত তথ্য জেনে না জেনে এসব অ্যাম্বুলেন্সে করেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল ও ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকরা সিন্ডিকেট করে স্বজনদের কাছ থেকে নিচ্ছেন অতিরিক্ত ভাড়া। শুধু তাই নয়, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে করা হয় দুর্ব্যবহারও। এ ছাড়াও ওই হাসপাতালের সামনের অ্যাম্বুলেন্স ছাড়াও অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্সে রোগী পরিবহনে প্রতিনিয়ত বাধা দেয় মালিক ও চালকরা।
মোহাম্মদ আলী নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, আমার নাতি বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে তাকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানকার চিকিৎসক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করেন। পরে রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলি। সিন্ডিকেট করে সবাই ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে বোরহানউদ্দিনের একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে কথা বললে তারা ১২ হাজার টাকা চায়। সেটিকে আসতে বললে হাসপাতালের আশপাশের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকরা ওই চালককে হুমকি দেয়। এ ছাড়াও ওই অ্যাম্বুলেন্সটির পথরোধও করা হয়। এরপর আমরা ১৮ হাজার টাকা দিয়ে সদরের অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য হই। এ ছাড়া এখানকার বেশিভাগ অ্যাম্বুলেন্সই ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন।
মো. মহিবুল্লাহ নামে আরেকজন বলেন, ভোলা সদর হাসপাতাল থেকে ইলিশা লঞ্চঘাট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালকরা ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন। আর হাসপাতালের বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ৮০০ টাকা চায়। কিন্তু সেটিকে হাসপাতালের মালিক ও চালকরা রোগী নিয়ে যেতে বাধা দেয়। পরে আমি বাধ্য হয়ে সদর হাসপাতালের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সেই ১ হাজার ৩০০ টাকায় নিয়ে যেতে হয়। এ ছাড়াও কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক চালক অ্যাম্বুলেন্স চালানোর কারণে মাঝেমধ্যে পথে ঘটছে দুর্ঘটনা।
হাবিবুর রহমান, মো. আনিকসহ একাধিক অ্যাম্বুলেন্স চালক জানান, তারা তেমন বেশি ভাড়া নিচ্ছেন না। এ ছাড়াও তাদের কয়েকজন চালক রোগীর স্বজনদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাদের কারণে সবার বদনাম হচ্ছে।
ভোলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মিলন হাওলাদার সিন্ডিকেটের কথা অস্বীকার করলেও ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকের কথা স্বীকার করে বলেন, অন্য উপজেলায় রোগী নিয়ে গেলে আসার সময় সেখানকার মালিক ও চালকরা রোগী আনতে দেন না। তাই আমরাও তাদের সদর হাসপাতাল থেকে রোগী নিতে দিই না। তবে রোগী নিয়ে তারা আসতে পারেন হাসপাতালে। মালিকদের ফিটনেসবিহীন অ্যাম্বুলেন্স না চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চালকের লাইসেন্স করাসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের অ্যাম্বুলেন্স চালাতে নিষেধ করা হয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সুপার শরীফুল হক বলেন, অ্যাম্বুলেন্সসহ সকল ফিটনেসবিহীন, লাইসেন্সবিহীন যানবাহন ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের বিরুদ্ধে প্রতিদিনই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রোগী ও স্বজনদের হয়রানির লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।