টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর
টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ২০:০৫ পিএম
অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে মঙ্গলবার ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভ। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীর চরাঞ্চলের কৃষকদের রোপণ করা ফসলি জমির বালুমাটি অবৈধভাবে কেটে তা বিক্রির মহোৎসবে মেতে উঠেছে কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ী। এসব বালুমাটি রাতের আঁধারে প্রশাসনের আড়ালে ট্রাকযোগ অবাধে বিক্রি করছে তারা। ফসলি জমি থেকে অবৈধ বালুমাটি উত্তোলনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার বলরামপুর, তারাই ও গারাবাড়ী এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের গারাবাড়ী এলাকায় সড়কে আগুন ধরিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এই খবরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিমা বিনতে আখতার ও ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে বিক্ষোভকারীদের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেন। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এর আগে গতকাল সকালে তারাই স্কুলমাঠে সমবেত হয় স্থানীয় লোকজন। পরে সেখান থেকে এলাকাবাসী গারাবাড়ী এলাকায় অবৈধ বালুঘাটে গিয়ে বালু উত্তোলনের বেশ কয়েকটি ভেকু (মাটিকাটার যন্ত্র), একটি ড্রাম ট্রাক ও পাইপ ভাঙচুর করে বিক্ষোভকারীরা। পরে পাইপগুলো মহাসড়কে নিয়ে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় তারা।
স্থানীয় একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা আনোয়ার হোসেন ওরফে সুইট, মোজাম্মেল হোসেন ও যুবদল নেতা টিপুর নেতৃত্বে এই বালুঘাটটি পরিচালিত হতো। তাদের একাধিকবার বাধা দিলেও তারা কোনো বাধা না মেনে রাতের আঁধারে ফসলি জমি কেটে অবাধে বালু বিক্রি করেন।
এ ছাড়া ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার তারাই, কুঠিবয়ড়া, অর্জুনা, জগৎপুরা ও নলিন এলাকার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে যমুনা নদীতে বাঁধ দিয়ে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইড ভেঙে গাড়ি চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছেন প্রভাবশালী এসব বালু ব্যবসায়ী।
উপজেলার তারাই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রজমান আলীসহ কয়েকজন কৃষক বলেন, যমুনা নদী শুকিয়ে যাওয়ার পর বিএনপি নেতাদের নেতৃত্বে বালু কাটা শুরু হয়েছে। দিনরাত ভেকু দিয়ে বালু কেটে ট্রাকযোগে বিক্রি করছে। এতে ফসলি জমি কেটে নিচ্ছে তারা। এ ছাড়া এভাবে নদীর চর কাটায় বর্ষা মৌসুমে নদীর পাড় ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সিফাত বলেন, স্থানীয় বিএনপির নেতারা জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করছে। যেভাবে বালু কাটা হচ্ছে তাতে আগামী বন্যায় ঘরবাড়ি ভেঙে যাবে। আমাদের জমিও কেটে নিচ্ছে। বাধা দিলেই হুমকি দেওয়া হয়। প্রশাসনের কাছে দাবি, বালু উত্তোলন বন্ধে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
তারাই এলাকার বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন সুইট বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।
অপর বিএনপি নেতা মোজাম্মেল বলেন, স্থানীয়দের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হয় এবং তাদের মানববন্ধন না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও সড়ক অবরোধ এবং ঘাটের ভেকু ও গাড়ি ভাঙচুর করেছে তারা।
ভূঞাপুর থানার ওসি একেএম রেজাউল করিম জানান, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের খবরে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বালুঘাট বন্ধে আশ্বাস দেওয়ায় তারা অবরোধ তুলে নেন। অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার জানান, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছেÑ এমন অভিযোগ পেয়েছি স্থানীয়দের কাছ থেকে। এ ছাড়া সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে তাদের আশ্বাস দেওয়ায় অবরোধ তুলে নেয় বিক্ষোভকারীরা।