আখাউড়া স্থলবন্দর
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৯:৫৩ পিএম
ভারতের আগরতলা ইমিগ্রেশনের সামনের সড়কে বাঁশের বেড়া। প্রবা ফটো
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরের ওপারে আগরতলা ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের সামনের সড়কে আড়াআড়িভাবে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। এতে যাত্রী চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে।
মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ভারত থেকে আসা একাধিক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে কী কারণে এ বেড়া দেওয়া হয়েছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে সোমবার কিছু ভারতীয় স্থলবন্দর এলাকায় এসে বিক্ষোভ দেখায়। গতকালও তাদের আসার কথা। তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে এ বেড়া কি না সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইতোমধ্যেই মঙ্গলবার সকাল থেকে এ বন্দর দিয়ে মাছ যায়। বাংলাদেশের পরিবহন সেখানকার বন্দর এলাকায় গিয়ে মাছ রেখে আসে। ভারতীয় পরিবহনে এসব মাছ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কথা। এ ক্ষেত্রে বাঁশের বেড়া অতিক্রম করে কীভাবে মাছ নিয়ে যাওয়া হয় এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
বন্দরের একটি সূত্র জানায়, ওপারে বন্দর ও এর আশপাশে অতিরিক্ত বিএসএফ মোতায়েন রয়েছে। এ অবস্থায় বেলা ১১টা থেকে এপারে বিজিবিকেও সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায়। এসবের মধ্যেই যাত্রীরা আসছেন।
ভারত থেকে আসা কুমিল্লার কোম্পানিগঞ্জের উজ্জ্বল দেবনাথ জানান, বন্দরে ঢোকার পথেই সড়কে বাঁশের বেড়া দেওয়া। এটি পার হয়ে আসতে খুব কষ্ট হয়। তবে আসতে কেউ বাধা দেয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন জানান, তার পরিবার আগরতলায় অস্থিরতা ও সড়কে বেড়া দেওয়ার খবর পেয়েছে। এ কারণে সকাল থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ায় তিনি চলে এসেছেন।
এদিকে মাছ আমদানিতে আগ্রহ থাকলেও ওপারে বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার ত্রিপুরার হোটেল মালিকদের এক সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর আগে আইএলএস নামে একটি হাসপাতাল বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা দিবেন না বলে ঘোষণা দেয়।
চিন্ময় দাস গ্রেপ্তার ইস্যুতে দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি চলছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে। ভারতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলে সে দেশে বাংলাদেশি পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ সোমবার ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনারের আগরতলার কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভারতের পক্ষ থেকে অবশ্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম বলেন, এ পথে যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে প্রতিদিন গড়ে দুই দেশের ৫ থেকে ৬০০ যাত্রী যেখানে পারাপার হয় সেখানে অন্য দিনের তুলনায় আজকে (মঙ্গলবার) সকাল থেকে যাত্রী অনেক কম।