× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিকলীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, চাষাবাদে বাধা

মধ্যাঞ্চলীয় অফিস

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৫৭ পিএম

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫:৫৯ পিএম

নিকলীতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ, চাষাবাদে বাধা

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অন্যের জমি দখলের চেষ্টা চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠেছে। উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কান্দায় পৈত্রিক জমিতে চাষাবাদ করতে গিয়ে মৃত আব্দুল হামিদের সন্তানেরা বাধার মুখে পড়েন। তারা সামাজিকভাবে দফায় দফায় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও সালিশি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মানছেন না প্রতিপক্ষ। বরং প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

নিরূপায় হয়ে আব্দুল হামিদের সন্তানেরা প্রতিকার চেয়ে থানা পুলিশ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্যাম্পের দ্বারস্থ হয়েছেন। সেখানে সমস্ত দলিল তাদের পক্ষে আদালতের রায়ের বিষয়টি অবহিত করেন। জমির প্রকৃত মালিকানার সত্যতা পেয়ে পৈত্রিক জমি চাষাবাদে প্রতিপক্ষকে বাধা দিতে নিষেধ করেছে প্রশাসন। তবে তাতেও ক্ষান্ত হচ্ছে না প্রতিপক্ষ। জমি ভাগিয়ে নিতে একের পর এক ষড়যন্ত্রও চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

 

জানা গেছে, জেলার নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের নম্বর ওয়ার্ডের কৈবত হাটির মৃত মুছন্দালীর ছেলে সাদির মিয়া। তিনি উপজেলা বিএনপি সাবেক গ্রাম বিষয়ক সম্পাদক। গত (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কয়েকজন সহযোগী নিয়ে আব্দুল হামিদের মেঝ ছেলে মঞ্জিল হোসেনকে পৈত্রিক জমিতে চাষাবাদে বাঁধা এবং প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করেন। একই দিন আনুমানিক রাত ১০টার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

 

যুগ যুগ ধরে মালাকানাধীন পৈত্রিক জমি চাষ করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন জানিয়ে মঞ্জিল হোসেন বলেন, ‘আমার দাদা, বাবা এবং মায়ের কাছ থেকে ওয়ারিশসূত্রে প্রাপ্ত  একর ৯৬ শতাংশ জমি গত ৭০ বছর ধরে আমরা একতরফা মালিকানা, ভোগদখল এবং চাষাবাদ করে আসছি। প্রতিপক্ষ ১৯৬৮ সালে ভূমি জরিপ আমলে তাদের লাঠিয়াল বাহিনী নিয়ে আমার আরওআর, বিআরএস এবং দখলের বিরুদ্ধে একটি এওয়াজ দলিল তৈরি করে ৩০ ধারায় মামলা দায়ের করে। তবে যথার্থতা না পেয়ে শুনানি শেষে আদালত ১৯৮৮ সালে মামলাটি খারিজ করে দেন।

 

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে তাদের জমির শতভাগ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে একের পর এক সালিশের মাধ্যমে আমাদেরকে কোণঠাসা করে সাদির মিয়া তার পরিবারের সদস্যরা। পরে আমরা পারিবার এবং সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্য একটি মামলা দায়ের করি। আদালত আমার পক্ষে এবং তাদের বিপক্ষে একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এতে তারা সাময়িক সময়ের জন্য নিভৃত হয়। 

 

তবে মামলাটি চলমান থাকলেও ক্ষান্ত হয়নি জবরদখলকারীরা। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে তারা নতুন করে চক্রান্তে লিপ্ত হয়। এবার বলপ্রয়োগের পথ বেঁচে নেওয়ার পাশাপাশি আমাদের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় লাঠিয়াল ভাড়া করে জমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি এবং জমিতে চলমান চাষাবাদ সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেয় তারা।’

 

এই পরিস্থিতিতে নিজ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিধানে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ চান মঞ্জিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ নভেম্বর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিকলী সেনা ক্যাম্পে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই এবং তার পৈত্রিক ভূমি সরেজমিনে তদন্ত করে তাদের পক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে দাবি করেন আব্দুল হামিদের সন্তানেরা। বৈঠকে সাদির গং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীর ক্যাম্প ইনচার্জ প্রকৃত মালিককে জমি চাষে কোনো রকম বাধা সৃষ্টি না করার আদেশ প্রদান করেন। তবে তা উপেক্ষা করে বিএনপি নেতা সাদির গত ২৪ নভেম্বর থেকে জমি চাষাবাদে আবারও বাধা এবং মালিক পক্ষকে হত্যার হুমকি দিতে থাকে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ নভেম্বর জমিতে চাষাবাদের কাজ করার সময় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মঞ্জিলের ওপর অতর্কিতে হামলা চালানোয় বিএনপি নেতা সাদির মেম্বারের লোকজন। এতে হামলায় যোগ দেয় সাবেদ আলী, আরফোজ, লুকমান, আবুল। প্রাণ বাঁচাতে তখন তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন মঞ্জিল।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সাদির মেম্বার জানান, এই জমির মালিক আমরা।  ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় তাই কিছু করতে পারিনি। 


 ১৫ বছরের আগে জমির মালিক কে ছিল জানতে চাইলে তিনি এর জবাব দেননি। তিনি বলেন, ‘জমির দলিল রয়েছে আমার কাছে। তবে তিনি জমির দলিল দেখাতে পারেননি।

 

বিষয়ে জানতে চাইলে নিকলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বদরুল মোমেন মিঠু বলেন, গত কয়েকদিন আগেও বিষয়টি নিয়ে থানায় একটি দরবার হয়েছিল। দরবারে মঞ্জিল মিয়ার কাগজপত্র সঠিক দেখাতে পেরেছে। কাগজপত্র অনুযায়ী মঞ্জিল মিয়ার রাইট বেশি। দরবারে নির্দেশ সাদির মেম্বার তার লোকজন মানেনি। বর্তমানে আমাদের উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। দলে সাদের মেম্বারের কোনো পদ পদবী নেই। তাই দলীয় কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না।  


নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘সেনাবাহিনীর ক্যাম্পেও তারা জমির বিষয়টি নিয়ে বসেছিল। সেখানেও বিষয়টি সমাধান হয়নি। জায়গা জমির বিষয় তাই আমি উভয়পক্ষকে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা