পার্বত্য শান্তি চুক্তি
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ২১:৫৩ পিএম
সাবেক সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হয়নি, এই চুক্তি সরকারের সঙ্গে হয়েছে। কাজেই এই চুক্তির দায় শুধু আওয়ামী লীগ সরকারের নয়, এই চুক্তির দায় যখন যে সরকার আসবে সে সরকারকে নিতে হবে। পার্বত্য শান্তি চুক্তির দায়ভার অন্তর্বর্তী সরকারকেও নিতে হবে। আমরা দেখেছি, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবর্তনের হাওয়া লাগেনি।
সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৭তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটি শহরের কুমার সুমিত রায় জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি এ সমাবেশের আয়োজন করে।
ঊষাতন তালুকদার বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অন্যান্য সংস্কার কমিশন করেছে, কিন্তু পার্বত্য সমস্যার মতো জাতীয় ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে যথাযথ উদ্যোগ নেয়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অন্য বিষয়গুলোর সঙ্গে পার্বত্য সমস্যাকেও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
সমিতির সহসাধারণ সম্পাদক উ উইন মং জলির সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন, শিক্ষাবিদ শিশির কান্তি চাকমা, সমিতির সহছাত্রবিষয়ক সম্পাদক জুয়েল চাকমা, জেলা সহসাংগঠনিক সম্পাদক অরুণ ত্রিপুরা গিরিসুর শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি জয়তী চাকমা ইনু, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি সাধারণ সম্পাদক রুমেন চাকমা প্রমুখ।
এছাড়া খাগড়াছড়ি ও রাঙামটিতেও পার্বত্য চুক্তির ২৭তম বর্ষপূতি উপলক্ষে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়।
খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে।
সোমবার সকালে জেএসএসের উদ্যোগে জেলা সদরের মিলনপুরস্থ মারমা উন্নয়ন সংসদের হলরুমে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সুভাষ কান্তি চাকমা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিটন চাকমা প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সকল ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বক্তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ টানা সাড়ে ১৫ বছরের অধিক ক্ষমতায় থাকলেও চুক্তি বাস্তবায়ন না করে উল্টো চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে কালক্ষেপণ করেছে।
অন্যদিকে শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেছে পিসিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে জেলা সভাপতি মুহা. লোকমান হোসাইন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিকে সংবিধান বিরোধী ও বৈষম্যমূলক দাবি করে চুক্তির পুনর্মূল্যায়ন, পাহাড়ে শান্তি স্থাপনে ব্যর্থতার অভিযোগে আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান অপসারণ, পাহাড়ের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রত্যাহারকৃত নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুজ্জামান ডালিম, জেলা শাখার সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, কেন্দ্রীয় যুব পরিষদের সভাপতি আসাদ উল্লাহ প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান : দিবসটি উপলক্ষে সোমবার বান্দরবানের রাজার মাঠে গণসমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বর্ষপূর্তি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সুমন মারমার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেএসএসের কেন্দ্রীয় সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলে তাদের লোকজন দিয়ে চুক্তির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করিয়েছিল। বিগত স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন না করে প্রতারণা করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিকট আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির সব ধারা বাস্তবায়ন করতে হবে। আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে, ভূমি অধিকার নিশ্চিত করতে হব।
উবাচিং মারমার সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য সাধুরাম ত্রিপুরা (মিল্টন) ও মেঞোচিং মারমা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সেলিম রেজা নিউটন, মং নু হেডম্যান, উমেচিং মারমা, উশৈ হ্লা মারমা প্রমুখ। সমাবেশ শেষে রাজার মাঠ থেকে র্যালি বের করা হয়।
এদিকে বান্দরবান সেনা রিজিয়নের সহযোগিতায় ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে শান্তির পায়রা উড়িয়ে, কেক কেটে আলোচনা সভা করে দিবসটি পালন করা হয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাইর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান সেনা রিজিয়নের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদী হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসএম মঞ্জুরুল হক, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা।
[তথ্য সহায়তাÑরাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান প্রতিবেদক]