× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মেঘনার দুর্গম চরে কৃষি বিপ্লবের সম্ভাবনা

হাসান মাহমুদ শাকিল, লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৪:৪৫ পিএম

জেগে উঠা চরে চাষের কাজ করছেন দুই কৃষক। প্রবা ফটো

জেগে উঠা চরে চাষের কাজ করছেন দুই কৃষক। প্রবা ফটো

লক্ষ্মীপুরে মেঘনার বুকে জেগে উঠেছে পলিসমৃদ্ধ কয়েকটি চর, যার চারদিকেই নদী। তেমনি একটি মেঘারচর বা চরমেঘা। এই চরে কৃষিতে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। জোয়ার-ভাটা আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করেই তারা গত ২০ বছর ধরে চরের বুকে ফলিয়ে আসছেন সোনালি ফসল। তবে এখানে উৎপাদিত ফসলের হিসাব নেই কৃষি বিভাগের কাছে। এ ছাড়া ফসল উৎপাদনে পরামর্শ বা ক্ষতি থেকে উত্তরণে কৃষি বিভাগের কোনো সহযোগিতাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ কৃষকদের। 

চরমেঘা লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাট থেকে পশ্চিমে নদীর মাঝখানে অবস্থিত। আগের পরিত্যক্ত ও গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত এ চরে এখন সোনালি ফসলে দোল খাচ্ছে। প্রায় ২০ বছর ধরে স্থানীয় কৃষকরা চরের উর্বর পলিতে সোনালি ফসল উৎপাদন করে আসছেন। প্রথমদিকে এখানে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন উৎপাদন হতো, এরপর ধান। আর এখন ধান, সয়াবিন, শসা, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি ফলিয়ে আসছেন কৃষকরা। বছরের ছয় মাস এ চরে চাষাবাদ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা। এখানে উৎপাদিত প্রায় ৯০ শতাংশ সবজি যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতা তো দূরের কথা, পরামর্শও পান না তারা। সংশ্লিষ্ট কেউ কখনও আসেও না তাদের কাছে। এখানকার উৎপাদিত ফসলের হিসাবও কখনও নেয়নি। কৃষকেরা নিজেরাই নানা সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করেন। লাভের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে ক্ষতির শিকার হতে হয়। আর কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণে বেপারিদের বেঁধে দেওয়া মূল্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় তাদের। এতে অনেকাংশে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন তারা। এর মধ্যেও কৃষকদের দাবি, সংশ্লিষ্টদের সুনজর পেলে চরের মাটিতে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাবেন তারা। 

গত তিন বছর ধরে চরমেঘায় চাষাবাদ করে আসছেন কৃষক জামাল হোসেন। গত ঘূর্ণিঝড়ে জমিতে আবাদ করা শসা, করলাসহ সব সবজির গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন নতুন করে ফের তিন একর জমিতে তিনি শসার আবাদ করেছেন। প্রতি একরে ছয় লাখ করে ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। গাছের বয়স ৪৫ দিন হলেই ফলনে ছেয়ে যাবে শসার ক্ষেত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে খরচ বাদ দিয়ে অন্তত ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

জামাল বলেন, ‘এ চরে ধানের পাশাপাশি শসা, খিরাই, করলা, লাউ, কুমড়া, চিচিঙা, তরিসহ নানা জাতের সবজির ভালো উৎপাদন হয়। বাণিজ্যিক চাষাবাদে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হয়। সব সময় টাকা পকেটে রাখতে হয়। কিন্তু আমরা কোনো ঋণ পাই না। ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারলে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে না পড়লে ভালো লাভ হয়।’ তিনি বলেন, ‘গত মাসে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে অন্তত তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। লক্ষ্মীপুরে কৃষি কর্মকর্তা আছেন কি নাÑ তা জানি না। গত তিন বছরে আমি কাউকে দেখিনি।’

সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের নিমতলী এলাকার বাসিন্দা কৃষক আবু তাহের প্রায় ২০ বছর ধরে সপরিবারেই চরমেঘাতে বসবাস করেন। সেখানে নিজেদের জমিতেই তারা চাষাবাদ করেন। এ ছাড়া কয়েকটি গরু লালন পালনসহ অন্যের জমিতেও তিনি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এবার তিনি চার একর জমিতে ধান ও কিছু জমিতে সবজির আবাদ করেছেন। 

আবু তাহের বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি বা জোয়ার উঠলে কিছুটা ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়। আবার নতুন করে চাষাবাদ করি। তবে সব মিলিয়ে লাভও হয়। এ ছাড়া কখনও কেউ আমাদের দুটা সার ও অথবা দুটা বীজ দেয়নি।’ 

চরের কৃষিশ্রমিক রিয়াজ, ফরিদা বেগম ও নাছরিন বলেন, চরের চাষাবাদ শুরুর পর থেকে অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বছরের ছয় মাস চরে কাজ থাকে। আমরা মাসিক ১৫ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়োজিত আছি। চরেই থাকি, চরেই কাজকর্ম করি।

কৃষক মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘চরের মাটির গুণাগুণ ভালো। তাই ফলন ভালো হয়। ১৫ বছর ধরে চরে ধান, সয়াবিন, সবজির চাষ করি। তবে মাঝেমধ্যে অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে চরের ফসল তলিয়ে যায়। তখন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। এ ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা সরকারি কোনো সহযোগিতা পাই না।’

স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী মো. জিহাদ হোসেন বলেন, ‘চরের ফসল স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে। খাদ্য উৎপাদনে চরের জমি এবং কৃষকেরা ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কৃষিপণ্য বাজারজাতের ক্ষেত্রে কৃষকদের ঠকতে হয়। তারা নায্যমূল্য পায় না। পণ্য বাজারজাতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রয়োজন। এতে কৃষি উৎপাদনে উৎসাহিত হবে কৃষকরা।’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘‘চরের ১২ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হচ্ছে। নদীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোকে কেন্দ্র করে কৃষি বিভাগ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে। এখানে জোয়ার-ভাটার একটা প্রভাব রয়েছে। তাই ‘ক্লাইমেট স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচার’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে আমাদের কিছু প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে। মাঠ দিবসও করা হয়। চরের মাটি অত্যন্ত উর্বর। সেখানে সরিষা, ভুট্টা, বাদাম, তিল সম্ভাবনাময় ফসল। আমরা ব্যাপকভাবে এগুলো চাষাবাদের উদ্যোগ নিয়েছি।’’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা