আইনজীবী আলিফ হত্যা
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৪ ২২:৩২ পিএম
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যায় পরিবারের দায়ের করা মামলায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার সহকর্মীরা। মামলায় বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি না করায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রবিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের শোক র্যালি-পরবর্তী সমাবেশে এই ক্ষোভ জানানো হয়।
সমাবেশের আগে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বুকে কালোব্যাজ ধারণ করে, কালো পতাকা হাতে নিয়ে তার সহকর্মীরা শোক র্যালি করেন। র্যালিটি আদালত চত্বরের সোনালী ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে থেকে নগরীর লালদীঘি, হকার্স মার্কেট ঘুরে আদালত চত্বরের দোয়েল ভবনের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ইসকনের সন্ত্রাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর এই কোর্ট বিল্ডিংয়ে পর্যায়ক্রমে যে ঘটনাগুলো হয়েছে এবং আলিফকে হত্যার পর যে মামলাগুলো করা হয়েছেÑ প্রতিটি মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে আসামি করতে হবে। গতকাল (শনিবার) যে মামলা হয়েছে, আমরা মনে করি সমস্ত মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্রধান আসামি করা প্রয়োজন। যদি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মামলার ১ নম্বর আসামি করা না হয়; আমরা আইনজীবীরা তা মানব না।
নাজিম উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, সব সময় বলেছিÑ এই ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করি। আমরা চট্টগ্রামে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করে আনতে দেখেছি। পুলিশ তাদের রাজনৈতিক সমর্থক কাউকে কাছে ভিড়তে দেয়নি। কিন্তু চিন্ময় দাসকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হয় তখন তার সমর্থকরা গাড়ি আটকে রেখেছিল। আমরা দেখেছি, চিন্ময় দাস পুলিশের মাইক ব্যবহার করেছেন। সেই মাইক ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। চিন্ময় দাসের ওই বক্তব্যের পরে, তার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সমস্ত ত্রাস, ভাঙচুর, মসজিদে হামলা, তাণ্ডবÑ সর্বোপরি আমার ভাই আলিফকে হত্যা করেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে যে হত্যা মামলা হয়েছে, সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী-সাক্ষী রয়েছে। আমি পুলিশকে অনুরোধ করবÑ এই মামলার চার্জশিট দিতে দেরি হওয়ার কথা নয়। আমরা আমাদের প্রিয় ভাই আলিফের হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না। যারা গ্রেপ্তার হয়নি; তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনুন।’
এদিকে গত ২৬ নভেম্বর আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় ২৭ ও ২৮ নভেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির কর্মসূচি অনুযায়ী চট্টগ্রাম আদালতে আইনজীবীরা কর্মবিরতি পালন করেন। ২৯ ও ৩০ নভেম্বর সরকারি ছুটি থাকায় এবং কর্মবিরতি পালনকালীন আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ ছিল বিধায় কোনো মামলার শুনানি হয়নি। মামলাগুলোর আদেশ শুনানি রাখা হয়েছিল পরবর্তী তারিখে। এই চার দিন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর গতকাল সকাল থেকে আইনজীবীরা আবার কাজে যোগ দেন।
আইনজীবী আফিল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গত শনিবার কোতোয়ালি থানায় তার বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। পাশাপাশি আইনজীবী আলিফের ভাই খানে আলম যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের ওপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেছেন। এছাড়া চিন্ময় অনুসারীরা আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছে।