× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রংপুরে আগাম আলু

শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক প্রত্যাশা ভালো দামের

মেরিনা লাভলী, রংপুর

প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:১৪ এএম

রংপরের গঙ্গাচড়ায় আগাম আলুক্ষেতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। উপজেলার মহিপুর এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

রংপরের গঙ্গাচড়ায় আগাম আলুক্ষেতে শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক। উপজেলার মহিপুর এলাকা থেকে সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর চরে কৃষক আবুল হোসেন এক একর জমিতে গ্রানুলা জাতের আগাম আলু আবাদ করেছেন। এখন ক্ষেতে কান্দি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিয়মিত সার, কীটনাশক, সেচের কারণে আলুগাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠেছে। ডিসেম্বর মাসে আলু ওঠানোর আশা তার। শুধু আবুল হোসেনই নন, তার মতো অনেকেই চাষ করেছেন আগাম আলু। বাড়তি লাভের আশায় এ বছর আগাম আলুতে ঝুঁকছেন কৃষক। আলুক্ষেতের শেষ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। এ বছর উত্তরে আগাম শীত অনুভূত হওয়ায় আগাম আলু উৎপাদন কৃষকের অনুকূলে রয়েছে। কৃষকের অভিযোগ, এ বছর তিনগুণ বেশি দামে আলুবীজ কিনতে হয়েছে। এর সঙ্গে সার, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধির কারণে বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। 

গত বছর আগাম আলু আবাদ করে ভালো দাম পেয়েছেন চল্লিশসাল এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম। তাই এ বছর জমি লিজ নিয়ে আগাম আলু আবাদ করেছেন। পোকামাকড়ের হাত থেকে ক্ষেত রক্ষায় জমিতে কীটনাশক স্প্রে, আগাছা পরিষ্কার করছিলেন তিনি। এ বছর আলুর বাজার ঊর্ধ্বমূখী হওয়ায় গত বছরের মতো আগাম লাভের আশা দেখছেন। 

তিনি বলেন, লাভের আশায় নদীর চরে আগাম আলু চাষ করেছি। আগাম আলু ক্ষেত থেকে বিক্রি হয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লায় চলে যায়। এ বছর আমাদের আবাদে খরচ বেড়েছে। গত বছর আলুবীজ ২০ টাকা কেজি ছিল, এবার কিনতে হয়েরেছ ৬০ টাকা করে। এ বছর ফসফেট সারের কিছু সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার এই সারের রেট দিয়েছে ১ হাজার ৩৫০ টাকা বস্তা। কিন্তু দোকানদার দেড় হাজার টাকার বেশি দরে বিক্রি করছেন। কিন্তু বিলে লিখছে ১ হাজার ৩৫০ টাকাই। বাধ্য হয়ে আমাদের ওই দামে কিনতে হচ্ছে। 

শহিদুল ইসলাম নামে আরেকজন কৃষক বলেন, ‘গতবার ক্ষ্যাত থ্যাকি আলু বেচাইছি ৫০ টাকা কেজি করি। এই বছর ৭০ টাকার বেশি বেচবার না পারলে হামার লস হইবে। এই বছর বীজ, সার, কীটনাশকের দাম বেশি। ভালো আলু হওয়ার জন্তে ক্ষ্যাতের দেখাশোনা করতোছি। দেখা যাক লাভ হইবে নাকি লস হইবে।’ 

কৃষক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আগুর আলুর কান্দি বান্ধা, সার দেওয়া, ম্যালা কাম করা নাগে। সামনের ৩৫ থ্যাকি ৪০ দিনে আলু তোলা যাইবে। নয়া আলুর দাম বাজারোত একনা বেশি হয়। এই আলু তুলি আবার আলু নাগামো। সেই আলু স্টোরোত রাখি সারা বছর খামো আর বেচামো।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর আগাম আলু চাষে ঝুঁকছেন কৃষক। শীত আসার আগেই কৃষকরা আলু লাগিয়েছেন। কৃষি বিভাগ থেকেও তাদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছ। এ বছর রংপুর জেলার ৫৩ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম আলু রোপণ করা হয়েছে। চরাঞ্চলেও উল্লেখযোগ্য জমিতে আগাম আলু চাষ হয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, রংপুর অঞ্চলে আগাম শীত নেমেছে। শীত আলুর টিউবার ফরমেশনের জন্য খুবই কাজে লাগে। তাই আগাম আলুর আবাদও ভালো হয়েছে। আলুক্ষেতগুলোতে তেমন রোগবালাইয়ের প্রকোপ নেই। আশা করছি কৃষকরা তাদের ভালো ফলন ও দাম পাবেন। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা