মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৪৫ এএম
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৪ ১২:৩১ পিএম
অভিযুক্ত মোখলেছ মিয়া । ছবি : সংগৃহীত
সন্তান বিক্রির পর যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় মোখলেছ মিয়া নামে একজনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহনাজ আফরোজের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জেসমিন আরা রোজী বিষয়টি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন। এ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম।
মোখলেছ মিয়া পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কাজিহাটি গ্রামের আবুল হাসেনের ছেলে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের (২৪ আগস্ট) সুখের সংসার গড়ে তোলার আশ্বাসে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার কাজিহাটি গ্রামের মোখলেছ মিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন একই গ্রামের দিনমজুর মধু মিয়ার মেয়ে কামরুন্নাহার। বিয়ের পর তাদের সংসারে প্রথমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু অর্থলোভী মোখলেছ মিয়া শিশুটিকে বিক্রি করে দেন। পরে পুত্রসন্তানের জন্ম হলে সেটাকেও বিক্রির পাঁয়তারা করেন। পাশাপাশি যৌতুকের ২ লাখ টাকার জন্য কামরুন্নাহারের ওপর চালান নিপীড়ন-নির্যাতন, দেন ডিভোর্সের হুমকি। এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নেন কামরুন্নাহার। ৮ নভেম্বর যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করলে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩-এর বিচারক জেসমিন আরা রোজী ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা স্বপনকুমারকে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে স্বপনকুমার আদালতে প্রতিদেন জমা দেন।
এদিকে ওই ঘটনায় মামলা রুজুর পর উপযুক্ত বিচারের আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করলেও বিবাদীপক্ষ থেকে নানাবিধ হুমকিধমকির কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলার দশা হয়েছে কামরুন্নাহারের। শিশু সন্তান কোলে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে এখন দিশাহারা তিনি।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়। সে সময় তার ছেলেকে ভরণপোষণসহ মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর দেনমোহরের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন মোখলেছ। এরপর জাঁকজমকপূর্ণভাবে ছেলেকে নিজের জিম্মায় নিয়ে সুন্নতে খতনা করিয়েই লাপাত্তা হয়ে যান মোখলেছ। পরে দরবারকারীরা প্রশ্ন তুললে তাদের ওপরও হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।