× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আইনজীবী হত্যার বিচার দাবি, সম্প্রীতির ডাক

প্রবা প্রতিবেদক, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৫৮ এএম

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৪ ১১:০১ এএম

চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে বুধবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিয়ের জানাজায় মানুষের ঢল। প্রবা ফটো

চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে বুধবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিয়ের জানাজায় মানুষের ঢল। প্রবা ফটো

বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কারাগারে পাঠানোর সময় গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের মৃত্যুতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বুধবার (২৭ নভেম্বর) প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। এসব প্রতিবাদ-বিক্ষোভ থেকে আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন নিষিদ্ধের দাবির পাশাপাশি দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

আইনজীবী আলিফকে হত্যার সঙ্গে জড়িত সাতজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৭৯ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। আরও ১৪০০ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে। ওই সাতজনসহ আগের রাতে আটক হওয়া ৩০ জনকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজনভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। এ সময় তাদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল ছোড়ে পুলিশ। এরপর আদালতের আইনজীবী ও কর্মচারীরা তাদের ধাওয়া করে। উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার একপর্যায়ে আদালত ভবনের বিপরীত পাশে হরিজন কলোনির ভেতর রঙ্গম কনভেনশন সেন্টারের সামনে থেকে আলিফসহ সাতজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলিফকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যায় জড়িত ৭ জন ‘শনাক্ত’, তিন মামলায় আসামি ১৪৭৯

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. রইছ উদ্দিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, আইনজীবী হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। তবে ওই হত্যার ভিডিও দেখে হত্যায় জড়িত ৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আইনজীবী হত্যার ঘটনায় পরিবার এখনও এজাহার দেয়নি। এজাহার দিলে মামলা রেকর্ড করা হবে। তবে শনাক্ত হওয়া ৭ জনসহ গ্রেপ্তার ৩০ জনের নাম জানাতে পারেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। 

এদিকে আলিফের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তার লাশ দাফন করে সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা লোহাগাড়া থেকে শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। সবার সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার এই মামলার এজাহার দেওয়া হবে। এ ছাড়া ওই সংঘর্ষের ঘটনায় আইনজীবীদের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

মঙ্গলবারের সংঘাতের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। একটি ভবনের ছাদ থেকে ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি দৌড়ে সেবক কলোনি (হরিজনপাড়া) থেকে বের হচ্ছেন। তাদের ধাওয়া করছেন কয়েকজন যুবক। ওই সময় ধাওয়া খেয়ে আলিফ পড়ে গেলে কয়েকজন মিলে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের লাঠিচার্জের পর সনাতনীরা ভাঙচুর করতে করতে নিচে যাওয়ার সময় আইনজীবীদের একটি দল ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে সনাতনীদের ধাওয়া দিয়ে আইনজীবীদের ওই দলটি হরিজনপাড়ার ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। পর মুহূর্তে হরিজনপাড়ার ভেতর থেকে লোকজন একত্র হয়ে ওই দলটিকে পাল্টা ধাওয়া দেয়। 

জানা গেছে, ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণ করে হত্যার সঙ্গে জড়িত ৭ জনের পরিচয় বের করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এর মধ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির এলএলবি পড়ুয়া এক ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের হরিজনপাড়া এলাকার একজন, কোতোয়ালির হাজারী গলি এলাকার একজন, কোতোয়ালির জলসা মার্কেট এলাকার একজন এবং বন্দরের নিমতলা এলাকার একজনকে চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এখন পর্যন্ত কারও নাম প্রকাশ করেনি তারা। 

আলিফের জানাজায় মানুষের ঢল

গতকাল সকালে চট্টগ্রামে আলিফের দুই দফা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। সকাল সাড়ে ১০টায় আদালত প্রাঙ্গণে জানাজায় অংশ নেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ। বেলা সাড়ে ১১টায় জমিয়াতুল ফালাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত জানাজায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ আরও অনেক রাজনীতিবিদ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা পড়ান নগর জামায়াতের আমির শাহজাহান চৌধুরী। বিকাল ৪টায় লোহাগাড়ার চুনতি ফারেঙ্গায় গ্রামের বাড়িতে সবশেষ জানাজা শেষে আলিফকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আলিফ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আলিফ ২০১৮ সালে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হওয়ার পর হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবেও নিবন্ধিত হন। জামায়াতে ইসলামী তাকে তাদের সংগঠনের সদস্য বলে দাবি করেছে। 

ইসকন নিষিদ্ধের দাবি

এদিকে আলিফ হত্যার বিচার ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে দিনভর মিছিলে বিক্ষোভে উত্তাল ছিল চট্টগ্রাম মহানগর। জানাজা শেষে জমিয়াতুল ফালাহ ময়দান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মিছিলটি টাইগারপাস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে শোক ও সম্প্রীতি সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ভুলে যাই নাই আওয়ামী লীগের সহায়তায় এই ইসকন কীভাবে গত ১৬ বছর বেড়ে উঠে আজকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে স্বৈরাচারের সঙ্গী হয়ে ভারতের প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশে অশান্তি সৃষ্টি করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ভারতের বুবু, ভারতের হাসিনা এই বাংলাদেশে তোমার আর ঠাঁই হবে না। ভারতে বসে যতই ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করা হোক আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেব।’

ইসকনকে বিতাড়িত করা হাতের ময়লা উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনা এই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, যে রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে, সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই চিন্ময়রা উস্কানি দেয়। সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে খুনি হাসিনারা উস্কানি দেয়। সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জঙ্গি ইসকনরা উস্কানি দেয়। সেই রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ভারতের কিছু প্রেতাত্মা উস্কানি দেয়। আমরা স্পষ্ট করে তাদের বলে দিতে চাই, আমরা ১৬ বছরের খুনি হাসিনাকে দেশছাড়া করেছি এবং ছোটখাটো কিছু জঙ্গি ইসকনকে দেশছাড়া করা আমাদের জন্য হাতের ময়লা।’

আইনজীবীদের কর্মবিরতি বাড়ল আরও এক দিন

সহকর্মী হত্যার প্রতিবাদে দিনভর চট্টগ্রামের আদালতে কর্মবিরতি পালন করেছেন আইনজীবীরা। আজ বৃহস্পতিবারও কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এটি সহ মোট ছয়টি সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো হলো সমিতির পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ, আদালতের মসজিদে বৃহস্পতিবার দোয়া মাহফিল, সমিতির অবকাশকালীন প্রীতি ভোজ বাতিল, ১ ডিসেম্বর আইনজীবীদের শোক মিছিল, সমিতির বার্ষিক ইনডোর গেমস স্থগিত।

মুন্সি সমিতির অফিসে আইনজীবীদের আগুন

আদালতে অবস্থান নেওয়া সনাতনীদের সহায়তা করার অভিযোগে চট্টগ্রাম আদালতের ক্লার্ক অ্যাসোসিয়েশনের অফিসের (মুন্সি সমিতি) নথিপত্রে আগুন দিয়েছেন আইনজীবীদের একাংশ। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতের প্রবেশমুখে ভূমি অধিগ্রহণ শাখার উল্টোপাশে ওই সমিতির অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুন্সি বলেন, ‘আইনজীবীরা আমাদের সমিতির কাগজপত্র জ্বালিয়ে দিয়েছে। আমাদের সমিতির কিছু সনাতনী ভাই গতকাল ইসকনের পক্ষে পোস্ট দিয়েছিল। এ নিয়ে আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। আলিফ ভাইয়ের জানাজার পর উত্তেজিত আইনজীবীরা ক্লার্ক সমিতিতে আগুন দেয়।’

হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার

আইনজীবী হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় শুভ কান্তি দাশ নামে শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সালাউদ্দিন শাহরিয়ার বলেন, ‘আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানালেন এই ছাত্র (শুভ কান্তি দাশ) মঙ্গলবারের ঘটনায় জড়িত ছিলেন, যে কারণে একাডেমিক কাউন্সিল মিটিংয়ে বসে এই ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে।’

শান্ত থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সরকারকে আরেকটু সময় দিন। আরেকটু ধৈর্যের পরিচয় দিন, শান্ত থাকুন। পরিস্থিতির ওপর সতর্ক এবং সজাগ দৃষ্টি রাখুন।’ দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা ওই বিবৃতিতে তারেক রহমান বলেন, ‘আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার পাশাপাশি দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটি বলছে, আওয়ামী লীগ ও দলটির দোসরদের ‘মদদে’ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দেশের ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে প্রপাগান্ডা’ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন ‘গায়ে পড়ে’ দেশের মানুষের মধ্যে ‘বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা’ চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

গতকাল বিকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আয়োজিত শোক ও সম্প্রীতি সমাবেশে এমন অভিযোগ করেন সংগঠনটির নেতারা।

মাহীন সরকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সম্প্রীতি বজায় রেখে আবহমানকাল থেকে একত্রে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতির বন্ধনকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বাইরে বসে আওয়ামী লীগের পতিত নেতারা ষড়যন্ত্র করছে। তারই অংশ হিসেবে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা হবে। তাদের পাতানো ফাঁদে আমরা পা দেব না। যত চেষ্টাই করুক এই দেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। আইন অনুযায়ী সব ঘটনার বিচার করা হবে। 

ঢাকার আদালতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকায় আদালত অঙ্গনে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঢাকার আইনজীবীরা। মিছিল থেকে ইসকন নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে বের হওয়া মিছিলটি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ঘুরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে এসে শেষ হয়। সমাবেশে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি ওমর ফারুক ফারুকী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খোরশেদ মিয়া আলম, ঢাকা আইনজীবী সমিতির অ্যাডহক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন উপদেষ্টা মাহফুজের

‘দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে বাংলাদেশকে গর্বিত করায়’ ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন জানিয়েছেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেছেন, হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে রাষ্ট্রকে গড়তে হবে।

গতকাল মাহফুজ আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা বলেন। তিনি লিখেছেন, ‘দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারও ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না ইনশাআল্লাহ। আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এ অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পর্যুদস্ত করবে। আমরা আর কলোনাইজেবল (উপনিবেশযোগ্য) হব না।’

উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘বিশেষ ধন্যবাদ প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতাদের প্রাপ্য। আপনারা এ গণ-অভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্মবর্ণ, লিঙ্গ-নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে।’

মাহফুজ আলম আরও বলেন, ‘হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল জুলাই শহীদানসহ শহীদ আলিফের (আইনজীবী সাইফুল ইসলাম) শাহাদাত অর্থবহ হয়ে উঠবে।’

জনগণকে প্রতিক্রিয়াশীল না হওয়ার আহ্বান নাগরিক কমিটির

জনগণকে প্রতিক্রিয়াশীল না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর পাঁয়তারা করছে ষড়যন্ত্রকারীরা। এজন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং দেশের বাইরের ‘ষড়যন্ত্রকারীদের’ রুখে দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে জাতীয় নাগরিক কমিটির ফেইসবুক পেইজে এক ভিডিও বার্তায় এ আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি মনে করে, সরকার ও প্রশাসন নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে আজকের এই দিন দেখতে হতো না।’ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কাজে অদূরদর্শী ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। এতে করে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি নানাবিধ ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাচ্ছে।’ 

জনগণকে প্রতিক্রিয়াশীল না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কোনোভাবেই প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না। দিল্লির এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির পাতা ফাঁদে আমরা পড়তে যাচ্ছি। দেশের নাগরিকরাই পারে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকলকেই আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রামসহ সকল স্থানে নাগরিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

‘রয়টার্সের প্রতিবেদন সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থি’

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তার ও জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স পুলিশের সঙ্গে কথা না বলেই মনগড়া বক্তব্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। গতকাল সিএমপির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানায়।

এতে বলা হয়, বিদেশি সংবাদমাধ্যম রয়টার্সে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নজরে এসেছে। রিপোর্টটি পরবর্তীতে ভয়েস অব আমেরিকাসহ আরও অনেক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। রিপোর্টটিতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার লিয়াকত আলী খানকে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, রয়টার্স বা কোনো সাংবাদিক এই বিষয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) লিয়াকত আলী খানের সঙ্গে কথা বলেননি। ঘটনার সময় তিনি আদালত প্রাঙ্গণসহ আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার কাজে দায়িত্বরত ছিলেন। লিয়াকত নামে চট্টগ্রামে চারজন কনস্টেবল আছেন। তারাও কাউকে কোনো বক্তব্য দেননি। এতে আরও বলা হয়, কারও বক্তব্য গ্রহণ না করেই নিজেদের মনগড়া বক্তব্যকে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য বলে চালিয়ে দেওয়া সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থি। ভবিষ্যতে রয়টার্সসহ সকল গণমাধ্যম এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা