সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ২০:৩১ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ২২:১০ পিএম
সিলেটের বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত ১ নম্বর কূপ নতুন করে খননের পর গ্যাস উত্তোলন শুরুর জন্য প্রস্তুত হয়েছে। সোমবার (২৮ নভেম্বর) সকাল থেকে এই গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। প্রতিদিন ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা যাবে। বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের ২ নম্বর কূপ থেকে প্রতিদিন বর্তমানে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি।
পরিত্যক্ত ১ নম্বর কূপে গত ১০ নভেম্বর গ্যাস মজুদের নিশ্চিত হয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। এর আগে গত সেপ্টেম্বর এই কূপে পুনর্খনন শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্স।
১৯৯৯ সালে ১ নম্বর কূপ থেকে উৎপাদন শুরু হয়। ২০১৪ সালে এর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালে ফের শুরু হলেও ওই বছরের শেষ দিকে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। চলতি বছর ১০ সেপ্টেম্বরে আবার কূপটিতে খনন শুরু করে বাপেক্স।
সিলেটে আরো খননের কাজ চলছে জানিয়ে এসজিএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, আগামী বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে সব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এসজিএফএল প্রতিদিন ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করার আশা করে।
তিনি জানান, গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলায় ৮ ও গোয়াইনঘাটে ১০ নম্বর কূপেও খননকাজ চলছে। এছাড়া রশিদপুরে একটি পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষে গ্যাস উৎপাদন আরো বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, বিয়ানীবাজার ফিল্ড এবং ব্লক-১৩ ও ১৪-এর আওতায় ডুপিটিলা, বাতচিয়া, হারারগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সাউথে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ কাজও শেষের পথে।
গ্যাসের রাজ্য হিসেবে পরিচিত সিলেটের হরিপুরে ১৯৫৫ সালে প্রথম গ্যাসের সন্ধান মেলে। বর্তমানে দেশে ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যার সিংহভাগ সিলেটে। এসব গ্যাসক্ষেত্রে প্রমাণিত মজুদ ২১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন বর্গফুট (টিসিএফ)। আরো ৬ টিসিএফ সম্ভাব্য মজুদ থাকার কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।