চমেক
আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১৫:১৫ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪ ১৫:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে ১০ শয্যার নতুন নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট (আইসিইউ) ওয়ার্ড চালু হয়েছে। একটি ব্যবসায়ী পরিবারের সহায়তায় ওয়ার্ডটি চালু হলেও লোকবল সংকটে এখনই পুরোপুরি আইসিইউ সেবা শুরু করা যাচ্ছে না। আপাতত হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) হিসেবে চলবে এর কার্যক্রম। চট্টগ্রামের শিল্প গ্রুপ প্যাসিফিক জিন্সের আলহাজ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ওয়ার্ডের একটি কক্ষে এই ইউনিট চালু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. সানাউল্লাহ শামীম বলেন, ‘ভেন্টিলেটরসহ ১০ শয্যার এই ইউনিটটি একটি পূর্ণ আইসিইউ সেটআপ। তবে আইসিইউ হিসেবে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে এটিকে আপাতত এইচডিইউ হিসেবে আমরা পরিচালনা করছি। এই মুহূর্তে অন্তত তিনজন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ও ১০ জন আইসিইউ নার্স পেলে পুরোদমে কার্যক্রম চালানো যাবে। তবে মেডিকেলেই এ ধরনের লোকবলের সংকট রয়েছে।’
চট্টগ্রাম বিভাগের তিন কোটি মানুষের নিউরো সার্জারি সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসা ওয়ার্ডটি। নিউরো সার্জারি ওয়ার্ডে সাধারণত ব্রেন টিউমার, নিউরোস্পাইন ও নিউরো ট্রমার (মস্তিষ্কে আঘাত) চিকিৎসা হয়। সড়ক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে প্রতিদিন মস্তিষ্কের আঘাতজনিত নানা জটিল সমস্যা নিয়ে নিউরো সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন বহু রোগী। কিন্তু একদিকে আইসিইউ শয্যা সংকট, অন্যদিকে অস্ত্রোপচার কক্ষের অপ্রতুলতার কারণে রোগীদের অস্ত্রোপচার করতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের। এই অবস্থার মধ্যে আলহাজ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আইসিইউ ইউনিট স্থাপিত হওয়ার বিষয়টি আশার আলো জ্বেলেছে।
শুধু আইসিইউ ইউনিট নয়, নিউরো সার্জারির পুরো ওয়ার্ডে লোকবল সংকট ও রোগীর চাপে বেহাল অবস্থা। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ওয়ার্ডের সব শয্যা রোগীতে পূর্ণ। শয্যার পাশে খালি জায়গাগুলোর মেঝেতে অনেক রোগীকে রাখা হয়েছে। ওয়ার্ডের নার্স ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ দিন মোট ১৮৩ জন রোগী ভর্তি ছিল। নিয়মিতভাবে এই ওয়ার্ডে কমবেশি ২০০ রোগী ভর্তি থাকে। ৪৬ শয্যার এই ওয়ার্ডটিকে ১৫০ শয্যার ওয়ার্ড করার প্রক্রিয়া চললেও এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। ৪৬ শয্যার অনুমোদিত জনবলের মধ্যেও অনেক পদ শূন্য রয়েছে। জানা গেছে, ওয়ার্ডের চারজন অধ্যাপক পদের চারটিই শূন্য। এ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপকের পাঁচটি পদের একটি, সহকারী অধ্যাপক পদের চারটি ও সহকারী রেজিস্টারের আটটি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য। অর্থাৎ ৪৬ শয্যার অনুমোদিত জনবলের অর্ধেক দিয়ে প্রায় চারগুণ বেশি রোগীর চিকিৎসা দিতে হয় ওয়ার্ডটিতে। এখানে গত বছর ৩৫ শয্যার নতুন শিশু নিউরো সার্জারি ওয়ার্ড চালু হয়েছে। এর সঙ্গে নতুন সংযোজন ১০ শয্যার এই আইসিইউ ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের অপারেশন থিয়েটার আছে একটি। যদিও প্রতিদিন গড়ে ১০টি অপারেশন হওয়া এই ওয়ার্ডের জন্য কমপক্ষে তিনটি অপারেশন থিয়েটার দরকার বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সহযোগী অধ্যাপক ডা. সানাউল্লাহ শামীম বলেন, ‘ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ রোগী ভর্তি থাকে। এর মধ্যে প্রতিদিন গড়ে ২৫ জন করে ট্রমার রোগী ভর্তি হয়। যারা মাথায় গুরুতর আঘাত নিয়ে আসেন। এদের ক্ষেত্রে আইসিইউ প্রয়োজন হয়। লোকবলও যথেষ্ট নয়। অনেক সীমাবদ্ধতা নিয়েই আমরা যথাসাধ্য সেবা দিতে চেষ্টা করছি। এই মুহূর্তে আইসিইউ পুরোদমে চালু করার প্রয়োজনীয় লোকবল পাওয়ার বিষয়ে আমরা বেশি জোর দিচ্ছি।’
জানতে চাইলে চমেকের আইসিইউ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে মোট ছয়জন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট আছেন। কিন্তু সব মিলিয়ে কমপক্ষে ২৪ জন অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় চেষ্টা চালাচ্ছে।