মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৯ পিএম
রংপুরের মিঠাপুকুরে বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে একটি পরিবার। ফলে ১৫ দিন ধরে পরিবারটির বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধা মাজেদা বেওয়া ও দুই শিশুসহ পাঁচজন মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।
সরেজমিন রবিবার (২৪ নভেম্বর) বিকালে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের পূর্ব গেনারপাড়া গ্রামে গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এ ঘটনার সত্যতাও মিলেছে।
ভুক্তভোগী মাজেদা বেওয়া বলছেন, তার স্বামী মাজেদ মিয়া মারা যাওয়ার আগে সেখানকার পূর্ব গেনারপাড়া মৌজায় তার সম্পত্তি থেকে ছেলে এরশাদ মিয়া এবং তাকে ৬.৫০ শতাংশ করে মোট ১৩ শতাংশ জমি (বসতভিটা) সমবণ্টন মূলে হেবা দলিল করে দেন। অভাব-অনটনের কারণে বৃদ্ধা তার প্রাপ্ত ৬.৫০ শতাংশ বসতভিটা থেকে ১৯৯৭ সালে ৩ শতাংশ এবং ১৯৯৯ সালে ৩.৫০ শতাংশ জমি তার প্রতিবেশী শাহাদাৎ হোসেনের কাছে পৃথক দলিল মূলে বিক্রি করেন। বর্তমানে তিনি ছেলের প্রাপ্ত ৬.৫০ শতাংশ জায়গায় বসবাস করে আসছিলেন।
দলিল সম্পাদনের পর শাহাদৎ হোসেন তার কেনা জায়গায় গাছ লাগিয়েছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি হঠাৎই লোকজন নিয়ে এরশাদের বাড়ির সামনে গিয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেন। এ সময় বৃদ্ধার ছেলে এরশাদ এভাবে বেড়া দেওয়ার প্রতিবাদ করেন ও তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা চালান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাদাতের লোকজন বৃদ্ধা মাজেদা বেওয়া, তার ছেলে এরশাদ এবং পুত্রবধূ মৌ ও তাদের দুই বাচ্চাকে বেধড়ক পেটান।
ভুক্তভোগী এরশাদ মিয়া বলেছেন, ‘আমার বাবা আমাদের জমির দিক উল্লেখ করে দেননি। অথচ শাহাদাৎ আমার মায়ের কাছ থেকে পুরা জমির দিক সামনে তুলে নকশা করেছে। তিনি বলছেন, মূল মালিকের কাছ থেকে জমি নিয়েও আমি নাকি যাতায়াতের রাস্তা পাব না।’ তিনি বাড়ির সামনে দেওয়া বাঁশের বেড়া দেখিয়ে বলেন, ‘আপনারাই দেখুনÑ এটা কি মানুষের বিবেক! আমি আমার বাচ্চাগুলোকে নিয়ে কীভাবে বাড়ি থেকে বের হব?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, শাহাদাৎ এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার অনেক জায়গাজমি থাকার পরও তিনি চেষ্টা করছেন প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সেখান থেকে উচ্ছেদ করতে।
এরশাদের স্ত্রী মৌ বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। শাহাদাৎ হোসেন এখানে বসবাসই করেন না। অথচ অজ্ঞাত কারণে আমাদের বিতাড়িত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আমাকে আর আমার স্বামীকে এত মারধর করা হলো, অথচ পুলিশ মামলা নিল না।’ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর আশঙ্কায় এ সময় তিনি কাঁদতে থাকেন।
অভিযুক্ত শাহাদাৎ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেছি। নকশা অনুযায়ী, জমির সামনের অংশ আমার।’ এরশাদ ও তার মা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেÑ এ দাবি করে তিনি জানান, এজন্যই তাদের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের তাড়াতে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে।
ময়েনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুকুল ইসলাম বলেন, ‘যতদূর জানতে পেরেছি, বৃদ্ধা মাজেদা বেওয়া জমি বিক্রির সময় কোনো দিক উল্লেখ করে বিক্রি করেন নাই। কিন্তু এখন জমির ক্রেতা শাহাদাৎ তাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। এ নিয়ে গ্রামে সালিশ-বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু শাহাদাৎ কোনো কথাই শুনছেন না।’
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘আমি থানায় নতুন যোগদান করেছি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিকাশ চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘চাইলেই কেউ কারও চলাচলের রাস্তা বন্ধ করতে পারে না। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’