লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ১২:১৪ পিএম
আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:৪৫ পিএম
ঢাকায় সমাবেশে যোগ দিলেই সর্বনিম্ন ১ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কথা বলে লক্ষ্মীপুরের হতদরিদ্র মানুষদের প্রলোভন দেখানো হয়। রবিবার (২৪ নভেম্বর) রাতে ‘অহিংস আন্দোলন বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের কথিত সেই সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য কমলনগরের ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ-কিশোর-কিশোরীকে একত্র করা হয়। উপজেলার করইতলা বাজারে ঘটনাটি ঘটে।
রাতেই স্থানীয়রা তাদের ঘেরাও করে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে তিনটি চেয়ারকোচ বাস ও চারটি মাইক্রোবাস জব্দ করে। এ সময় ১১ জনকে আটক করা হয়। তবে তাদের নামপরিচয় জানায়নি পুলিশ।
সোমবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাসযাত্রী নারী-পুরুষরা জানায়, একটি চক্র সোমবার ঢাকার শাহবাগ কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উপস্থিত হতে তাদের উদ্বুদ্ধ করে। ঋণের আবেদন ও সম্মেলনে উপস্থিতির জন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে তারা ১ হাজার টাকা করে নিয়েছে। ঋণপ্রত্যাশী ও সম্মেলনে উপস্থিতির জন্য দেওয়া হয়েছে টোকেন। টোকেনধারী সবাইকে দেওয়া হবে ১ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ।
আলেয়া বেগম নামে এক নারী বলেন, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা শাহবাগে একটি সমাবেশে যোগ দিতে লোকজন নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সেখানে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তারা প্রস্তাব দেবেন। ওই টাকা থেকে তাদের মতো গ্রামের নারী-পুরুষদের ১ লাখ থেকে বড় অঙ্কের টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
করইতলা বাজার এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, ৫ আগস্টের কয়েক দিন পর থেকে একটি চক্র গ্রামের মানুষদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার নাম করে সংগঠিত করছিল। ঘটনার সময় সেই চক্রের আহ্বানে ৩ শতাধিক নারী-পুরুষ ঢাকায় যাওয়ার জন্য গাড়িতে ওঠে। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেন।
উত্তর চরলরেন্স গ্রামের গৃহবধূ ফারহানা আক্তার ও জেসমিন বেগম জানান, ১০ টাকার বিনিময়ে তারা ১ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। এতে তাদের ঢাকার সমাবেশে যোগ দিতে হবে। সমাবেশের পরদিন থেকে তাদের ঋণ দেওয়ার কথা ছিল।
তোরাবগঞ্জ গ্রামের গৃহবধূ নাছিমা ও রৌশন বেগম বলেন, গাড়ি ভাড়া হিসেবে তিনি ১ হাজার টাকা দিয়েছেন। আরও অনেকের কাছ থেকেই এভাবে টাকা নিয়েছেন স্থানীয় সংগঠকরা।
ওসি তহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনটি বাস ও চারটি মাইক্রোবাস জব্দ আছে। তবে মূল হোতাদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা ঢাকায়। মাঝেমধ্যে এসে ফরম পূরণ করে চলে যান। তারা এখানকার হতদরিদ্র মানুষদের ১ হাজার টাকায় ফরম পূরণ করলে ১ লাখ টাকার চেয়ে বেশি সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছেন। এতে তাদের ঢাকায় নিয়ে ‘অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠন সমাবেশ করতে চেয়েছিল। ডিএমপির সঙ্গে কথা হয়েছে। কোনো সমাবেশ হয়নি, হবে না। কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাদের সভা পণ্ড হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, দুর্নীতিবিরোধী বিশেষ আইন প্রণয়নের দাবিতে ২৫ নভেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংহতি সমাবেশ করার কথা জানিয়েছে অহিংস গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। এ নিয়ে শুক্রবার (২২ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত বক্তব্যে এ তথ্য জানান সমাবেশের আয়োজক সংগঠনের সদস্য মো. মাহবুবুল আলম চৌধুরী।