হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:৪৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় কমিশনিংয়ের পর দীর্ঘদিন থমকে থাকা ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের বাণিজ্যিক অপারেশন কাজ অবশেষে চালু হতে যাচ্ছে। প্রকল্পটি চালুর জন্য জি-টু-জি ভিত্তিতে চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিপিপিইসি) কোম্পানিকে অপারেটর নিয়োগ দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গত ২১ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক অপারেশন চালুতে যে দীর্ঘসূত্রতা ছিল, তা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির পর আগামী বছরের শুরুর দিকেই চালু হতে পারে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক অপারেশন কাজ।
এ সম্পর্কে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) অনুপম বড়ুয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি যেহেতু ঠিক হয়ে গেছে, সেহেতু প্রকল্পটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করতে আর বেশি সময় লাগবে না। এখন আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করব। এরপর প্রতিষ্ঠানটি অপারেশন যন্ত্রপাতি সংযোজন করার পর দ্রুত প্রকল্পটির অপারেশন কাজ শুরু হয়ে যাবে।’
ঠিক কবে নাগাদ শুরু হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর অপারেশন যন্ত্রপাতি নিয়ে আসতে প্রতিষ্ঠানটিকে এক-দুই মাস সময় দিতে হবে। এরপরই প্রকল্পটির বাণিজ্যিক অপারেশন কাজ শুরু হবে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে এরপর পেট্রোলিয়াম ট্রান্সমিশন কোম্পানি (পিএলসি) সেটি অপারেশন করবে।’
প্রকল্পটির অধীনে পাইপলাইন বসানোর কাজ শেষ হওয়ার পর গত বছরের জুলাই মাসে ‘এমটি হরে’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে প্রথমবারের মতো পাইপলাইন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন পাইপলাইনে ত্রুটি ধরা পড়ায় সাগর থেকে পাইপলাইনে মহেশখালীর কালারমার ছড়ায় তেল নিয়ে আসার উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। পরে ত্রুটি সারিয়ে গত ৩০ নভেম্বর বিকালে ওই পাইপলাইন দিয়ে এমটি হরে জাহাজ থেকে ক্রুড অয়েল সরবরাহ শুরু হয়। এটি সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর গত ৫ ডিসেম্বর বিকাল থেকে ডিজেল পরিবহন শুরু হয়। ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা এমটি জেগ অপর্ণা জাহাজ থেকে ডিজেল পরিবহন শুরু হয়। সাগর থেকে তেলগুলো পরিবহন করে সেগুলো কালারমার ছড়ায় স্থাপিত এসব স্টোরেজ ট্যাংকে মজুদ রাখা হয়। পরে সেখান থেকে গত ২ মার্চ পাইপলাইনে কালারমার ছড়া থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তেল পরিবহন করা হয়।
এরপর অপারেটর নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রকল্পটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। বিপিসি বা এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন জনবল ও প্রযুক্তি না থাকায় প্রকল্পটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম চালু নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা। বিপিসি নিজস্ব জনবল দিয়ে অপারেশন কাজ শুরু করবে নাকি, অপারেটর নিয়োগ দেবেÑ এটি নিয়ে দেখা দেয় দ্বিধাবিভক্তি। এর মধ্যে অপারেটর নিয়োগ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন। এই অবস্থায় প্রকল্পটি চালুর জন্য প্রকল্পটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নিয়োগের প্রস্তাব পাঠায় ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। কিন্তু নানামুখী চিন্তাভাবনায় শেষ পর্যন্ত অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি থমকে যায়। এরপর সম্প্রতি আমদানি করা জ্বালানি তেল খালাসে ব্যবহৃত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের দুটি জাহাজ ‘বাংলার জ্যোতি’ ও ‘বাংলার সৌরভ’ অগ্নিকাণ্ডে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর গভীর সমুদ্র থেকে পাইপলাইনে তেল পরিবহনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এতে প্রকল্পটির অপারেশন কাজ দ্রুত শুরু করতে তোড়জোড় শুরু করে বিপিসি। এর অংশ হিসেবে গত ২১ নভেম্বর চায়না প্রতিষ্ঠানটিকে অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাবটি জি-টু-জি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।