নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ২১:০৬ পিএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪ ২১:১৪ পিএম
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামীর মোবাইল ফোনে সাবেক প্রেমিকের পাঠানো মেসেজ, ভিডিও নিয়ে অপবাদের জেরে প্রাণ দিতে হলো নববধূ ফাহিমা আক্তার পপিকে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত বুধবার বিকালে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের নিজ বাড়ির পাশে এক আত্মীয় বাড়িতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে।
ফাহিমা আক্তার পপি উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মো. সেলিমের মেয়ে। সে সৈকত সরকারি কলেজের বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় তার চাচা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সাবেক প্রেমিক মহিন ইসলাম রিয়াদ ও স্বামী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে মাসুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈকত সরকারি কলেজে পড়াশোনা করার সময় পপির সঙ্গে মহিন ইসলাম রিয়াদের পরিচয় হয়। পারিবারিকভাবে গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় একই এলাকার বিজিবি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর রিয়াদ পপির স্বামী মাহমুদের কাছে দাবি করে পপির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরপর রিয়াদ পপির সংসার ভাঙার জন্য পপির বিভিন্ন মেসেজ, যৌথ ভিডিও তার স্বামীর মোবাইল ফোনে পাঠায়। এ নিয়ে মাহমুদ ও তার পরিবারের সদস্যরা নববধূকে ‘চরিত্র ভালো নয়’ বলে বিভিন্ন অপবাদ দিতে থাকে। পরে মাহমুদ পপির সঙ্গে সংসার করবে না বলে জানায়। তার মতো মেয়ে বেঁচে না থেকে মরে যাওয়ার কথাও বলে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির পাশে এক আত্মীয় বাড়িতে পপি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে গেলে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।
চরজব্বর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, নিহতের চাচা বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মহিন ইসলাম রিয়াদ ও স্বামী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ওরফে মাসুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।