× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

টার্মিনাল তৈরির কাজে নতুন আশার আলো

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:২৩ পিএম

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:২৩ পিএম

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত ১৫ বছরে নেওয়া প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এতে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে নির্মাণাধীন গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দেখা দিয়েছিল নানা শঙ্কা। অনেকেরই ধারণা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এ মেগা প্রকল্পটি স্থগিত করে দিতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটিতে জ্বলেছে আশার আলো। গত ৭ অক্টোবর গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে একনেক সভাতে। সংশোধিত প্রস্তাবে এর প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে ৬ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রকল্পটির প্রথম টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হতে চলেছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, টার্মিনাল নির্মাণের জন্য দরপত্র মূল্যায়নের কাজ এর মধ্যেই শেষ হয়েছে। এখন সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করা যাবে। ওই বন্দর থেকে রেললাইনের মাধ্যমে কন্টেইনার পরিবহন করার জন্য চকরিয়ায় একটি মাল্টিমোডাল ইয়ার্ড নির্মাণের উদ্যোগও নিতে চলেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের পাশে চকরিয়ায় ইয়ার্ডটি তৈরি করা হবে। সেখানে থেকে রেললাইনের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন করা হবে আমদানি-রপ্তানি পণ্য। 

এ সম্পর্কে বন্দর কর্তৃপক্ষ সচিব ওমর ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘গভীর সমুদ্রবন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণকাজের দরপত্র মূল্যায়নকাজ শেষ। জাপানের পেন্টা ওসান করপোরেশন কোম্পানি লিমিটেড টার্মিনাল নির্মাণের কাজ পেতে যাচ্ছে। দরপত্রে অংশ নেওয়ার পর তারা নির্বাচিত হয়েছে। বন্দর থেকে প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদন পেলেই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির পর কাজ শুরু হয়ে যাবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কত দিন সময় লাগতে পরে এটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এক মাসের মধ্যে অনুমোদন পেলে কাজ শুরু করতে আরও হয়তো এক মাস লাগবে। তবে এটি নির্ভর করছে সিসিজিপির বৈঠকে অনুমোদনের ওপর। কারণ সিসিজিপির বৈঠকে অনুমোদন পেলেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এরপরেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।’

১২০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় মাতারবাড়ীতে ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ, ২৫০ মিটার প্রস্থ এবং ১৮ দশমিক ৫ মিটার গভীরতার একটি চ্যানেল খনন করা হয়। ওই চ্যানেলকে ঘিরে পরে তৈরি হয় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের স্বপ্ন। 

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য চ্যানেল তৈরি করার পর ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১০ মার্চ মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, ১৭ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ী ধলঘাট এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে দেশের একমাত্র গভীর এই সমুদ্রবন্দর। ওই এলাকার বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা ১ হাজার ৩১ একর জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে এই বন্দর।

প্রকল্প প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের অধীনে একটি ৩০০ মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস জেটি নির্মাণ, একটি ৪৬০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জাহাজ বার্থিং জেটি, ৩৫০ মিটার চওড়া এবং ১৬ মিটার গভীরতাবিশিষ্ট ১৪ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ চ্যানেল নির্মাণ, উত্তর দিকে ২ হাজার ১৫০ মিটার এবং দক্ষিণ দিকে ৬৭০ মিটার লম্বা ঢেউ নিরোধক বাঁধ নির্মাণ, তিনটি টাগবোট, একটি পাইলটবোট এবং একটি সার্ভেবোট কেনাসহ কার্গো হ্যান্ডেলিং ইক্যুইপমেন্ট টিওএস অ্যান্ড সিকিউরিটি সিস্টেম কেনা হবে। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য ২৭ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হবে। 

এরই মধ্যে গত ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চ্যানেলটি হস্তান্তর করার পর এটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি প্রকল্পটির ডিটেইল ড্রয়িং ডিজাইনের কাজ শেষে করে সিভিল ওয়ার্ক কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে সংস্থাটি। সিভিল ওয়ার্কের অংশ হিসেবে চ্যানেলের উত্তর দিকে নির্মাণ করা হচ্ছে ২ হাজার ১৫০ মিটার ঢেউ নিরোধক বাঁধ। একই সময়ে প্যাকেজ-১ (সিভিল ওয়ার্কস ফর পোর্ট কনস্ট্রাকশন) অধীনে বন্দরটির প্রথম টার্মিনাল তৈরির দরপত্র আহ্বান করে। ইতোমধ্যে ওই দরপত্র মূল্যায়নের কাজও শেষ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, প্রথম টার্মিনালটি নির্মাণের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন শেষে জাপানের পেন্টা ওসান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে নির্বাচিত করা হয়। সে অনুযায়ী প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে সিসিজিপির অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু জুলাই-আগস্টে গণআন্দোলনের সময় এর কাজ থমকে যায়। একনেকের সাম্প্রতিক সভায় অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পটি ঘিরে দেখা দিয়েছে আশার আলো।

নৌবাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরটি দেশের অর্থনীতির জন্য গেম চেঞ্জারের ভূমিকা পালন করবে। নৌবাণিজ্যের আঞ্চলিক হাবে পরিণত হবে এই বন্দর। এই বন্দরে জোয়ার-ভাটায় যেকোনো সময়ে ভিড়তে পারবে ৮ হাজার টিইইউএসের জাহাজ। সেখান থেকে সড়কপথের পাশাপাশি ফিডার জাহাজে করে নৌপথে দেশের বিভিন্ন বন্দরে নিয়ে যাওয়া যাবে আমদানি-রপ্তানি পণ্য। 

চট্টগ্রাম থেকে সমুদ্রপথে মাতারবাড়ীর দূরত্ব ৩৪ নটিক্যাল মাইল, পায়রা বন্দর থেকে মাতারবাড়ীর দূরত্ব ১৯০ নটিক্যাল মাইল ও মোংলা বন্দর থেকে গভীর সমুদ্রবন্দরের দূরত্ব ২৪০ নটিক্যাল মাইল। তাই মাতারবাড়ীতে মাদার ভেসেল (বৃহদাকার কন্টেইনার জাহাজ) থেকে পণ্য খালাস করে অল্প সময়ের মধ্যে সমুদ্রপথে অন্যান্য বন্দরে পরিবহন করা যাবে। অন্যদিকে প্রকল্পের অধীনে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে সড়কপথে যাতায়াত সহজ করার জন্য কক্সবাজারের চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালী থেকে মাতারবাড়ী পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে ২৭ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক। ওই সড়কটি যুক্ত হবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে। তাই সমুদ্রপথের পাশাপাশি সড়কপথেও পরিবহন করা যাবে পণ্য।

সড়ক ও সমুদ্রপথের পাশাপাশি রেলপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন সহজ করার জন্য চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের সংলগ্ন এলাকায় একটি মাল্টিমোডাল ইয়ার্ড নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটি নিয়ে জাইকার সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। এখন সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর জাইকার অর্থায়নে সেখানে মাল্টিমোডাল ইয়ার্ডটি তৈরি করা হবে। এ ইয়ার্ড তৈরি হলে সহজেই রেললাইনে পণ্য পরিবহন করা যাবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা