সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ২২:০১ পিএম
সংসারের হাল ধরতে ভ্রাম্যমাণ দোকানে বিরিয়ানি বিক্রি করছে ফাহিম। সম্প্রতি কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে।
রাস্তার পাশে স্কুলের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে খাবার বিক্রি করছে এক ছাত্র। বিক্রির ফাঁকে মাঝেমধ্যে বই পড়ছে। মোবাইল ফোনে শ্রেণির বই ডাউনলোড করে চোখ রাখছে। দেখে বোঝা গেল লেখাপড়ার বিষয়ে খুবই সচেতন। অবশ্য কিশোর বয়সে তার লেখাপড়ার টেবিলেই থাকার কথা। লেখাপড়া, দুরন্তপনা, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা আর খেলাধুলায় মগ্ন থাকার কথা।
সেই বয়সে বেঁচে থাকার সংগ্রাম করতে হচ্ছে। পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে লেখাপড়াও। বাবার মৃত্যুর পরে সংসারের হাল ধরতে এভাবেই সংগ্রাম করছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জালালপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফেকামারা গ্রামের ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে ফাহিম ভূঁইয়া। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতেই তার ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান।
মুন্সি আব্দুল হেকিম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম জানায়, তার বাবা দেড় বছর পূর্বে শারীরিক অসুস্থতায় আকস্মিক মারা যান। তারা দুই বোন আর এক ভাই। ফাহিম সবার বড়। পিতার মৃত্যুর পরে সংসারের চাকা অনেকটা যেন থেমে যায়। দিশেহারা হয়ে পড়ে সবাই। লেখাপড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। টেনেটুনে সংসার চলছিল। পরে সে বুদ্ধি করে লেখাপড়ার খরচ জোগানোর পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে কিছু করার উদ্যোগ নেয়। পরে বাড়ি থেকে বিরিয়ানি রান্না করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বিক্রি শুরু করে। একই সঙ্গে ‘মা বিরিয়ানি হাউজ’ নামে পেজে অনলাইনেও ডেলিভারি শুরু করে। সপ্তাহে দুই-তিন দিন স্কুলে ক্লাসে অংশ নেয়। বাকি দিনগুলোতে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ব্যবসা পরিচালনা করে।
ফাহিম বলে, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর কেউ সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। একদিকে পড়াশোনা অপরদিকে সংসারের হাল ধরা, উভয় নিয়েই চিন্তার মধ্যে থাকি। ইচ্ছে থাকলেও প্রতিদিন স্কুলে যেতে পারি না। কারণ উপার্জন করে তবেই তো লেখাপড়ার খরচ জোগান দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি কিংবা দানশীল কারও সহায়তা পেলে কিছু করার আগ্রহ রয়েছে। পুঁজির সংকটে ব্যবসার উত্তোরণ ঘটছে না।’
তার সহপাঠীরা জানায়, লেখাপড়ায় ফাহিম ভালো। কিন্তু পারিবারিক সংকট তাকে এখন চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কেউ এগিয়ে এলে তার চিন্তা কিছুটা হলেও কমে আসত।
মুন্সি আব্দুল হেকিম কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল হক আলমগীর জোয়ারদার বলেন, ‘ফাহিম লেখাপড়ায় ভালো। শুনেছি তার পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসার চালানো কষ্ট হচ্ছে তাদের। পড়াশোনার জন্য কলেজের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।’