কমলনগর
আমানত উল্যাহ, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২১ নভেম্বর ২০২৪ ১৪:১৯ পিএম
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নে মাত্র দেড় কিলোমিটার বেহাল সড়কের কারণে এলাকবাসীর দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রবা ফটো
লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাশেম মেম্বারের দোকান থেকে মানিকগঞ্জ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তায় পাঁচটি বাঁশের সাঁকো রয়েছে। এতে এ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কমলনগর উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি ওই অঞ্চলের মানুষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কের পাশে রয়েছে জনতা বাজার মইনুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসা, মানিকগঞ্জ বাজার দারুস সালাম কওমি মাদ্রাসা ও কে আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে চার শতাধিক। জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব প্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার ও অতিবৃষ্টির কারণে সড়ক উপচে পানি এক পাশ থেকে অন্য পাশে গিয়ে পাশের মেঘনা নদীতে পড়ে। এতে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার ওপর গত বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা দিলে দেড় কিলোমিটার সড়কের পাঁচটি স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এ সময় গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে ভেঙে গিয়ে সৃষ্টি হওয়া গর্তের ওপর পাঁচটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির কারণে দুর্ভোগ পোহালেও প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সেদিকে নজর নেই। তারা জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এসব সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে শিশু ও বৃদ্ধরা চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটে প্রায়ই। এ ছাড়া পাশের চরকালকিনি ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের চলাচলের মাধ্যম এ সড়ক। তাদের দাবি, সড়কটি উঁচু করে নির্মাণ ও এক পাশের পানি যাতে অন্য পাশে সরে পাশের মেঘনা নদীতে পড়তে পারেÑ এ জন্য দুটো কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।
জনতা বাজার মইনুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ইউসুফ বলেন, আমাদের প্রধান সমস্যা এখন এ রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি বারবার ভেঙে যায়। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম এলেই রাস্তাটিতে স্বাভাবিক হাঁটাচলা করাটাই কষ্টকর হয়ে যায়। এসব সাঁকোর জায়গায় রাস্তাটি মেরামত করে দুটি ছোট সেতু নির্মাণ করলে মানুষের কষ্ট কমে যেত।
স্থানীয় বাসিন্দা মুফতি শরীফুল ইসলাম বলেন, জনবহুল ওই এলাকার মাত্র দেড় কিলোমিটার রাস্তাটির জন্য এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ার ও বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির পানিতে ভেঙে যায়। বর্তমানে গ্রামবাসীর নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ ও ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা চলাচল করছে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহফুজুর রহমান রাজন মেম্বার বলেন, রাস্তাটি মেরামতের জন্য কয়েকবার ইউএনও ও পিআইও-কে সরেজমিনে এ স্থান পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেছি। মেঘনা নদীর কাছাকাছি হওয়ায় মেরামত করলেই ভেঙে যায়। এখন প্রয়োজন খুব উঁচু করে রাস্তাটি মেরামত করা। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
চরমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউছুফ আলী মিয়া বলেন, রাস্তাটি ভেঙে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। দেখলে মনে হয় বড় খালের মতো। আগে দেড় কিলোমিটার পুরো রাস্তাটি মেরামত করা প্রয়োজন। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার বলেন, সড়কটি নিয়ে এর আগে কেউ আমাদের জানায়নি। সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করে রাস্তাটি মেরামতের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুচিত্র রঞ্জন দাস বলেন, মেঘনা নদীঘেঁষে রাস্তা হওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তবু মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে অবশ্যই উদ্যোগ নেওয়া হবে।