এম পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:০০ পিএম
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের আমুরবুনিয়া গ্রামে আমন ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সোনালি ফসল আমন ধান ঘরে তোলার উৎসব শুরু হয়েছে। ঘরে ঘরে আমন ধান তুলতে কৃষক আনন্দে মাতোয়ারা। ভোর হতেই মাঠে কাঁচি হাতে কৃষক। দিনভর চলে কর্তন। উঠানে আঁটি আঁটি ধান। চারদিকে মৌ মৌ গন্ধ। বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে তৃপ্তির হাসি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার ২৬ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চফলনশীল (উফশী জাতের) ৬ হাজার ১৫০ হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২০ হাজার ২৬৪ হেক্টরে আমনের চাষাবাদ হয়েছে। মাঠজুড়ে সোনালি ফসলের সমারোহ। বাম্পার ফলনে কৃষকের ঘরে ঘরে বইছে উৎসবের আমেজ। সপ্তাহ ধরে মাঠে মাঠে কর্তন শুরু হয়েছে এসব ধানের।
উপজেলার বারইখালী গ্রামের কৃষক আজিম হাওলাদার জানান, চলতি বছরে আমনের ফলন ভালো হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় বেজায় খুশি আমরা। বাজারে দামও রয়েছে ভালো। উৎপাদিত ফসলে বিঘাপ্রতি সার, ওষুধ, শ্রমিকসহ খরচ হয়েছে ৩ হাজার টাকা। সেখানে বিঘাপ্রতি ধান বিক্রি করতে পারব প্রায় ১৪ হাজার টাকা। একই কথা বললেন সদর ইউনিয়নের কৃষক সোহরাব হোসেন, সাইফুল ইসলাম কবির, তপন মিস্ত্রি, সুমন গাইন, নুরুজ্জামান শেখ, নিশানবাড়িয়ার আমুরবুনিয়া গ্রামের চান মিয়া, দিলীপ গাইন, জগদীশ ডাকুয়াসহ অনেকে।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সামসুন্নাহার বলেন, ‘নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধান কাটা শুরু হয়েছে। অন্যসব বছরের চেয়ে এবার আমনের ফসল খুবই ভালো হয়েছে। তবে বড়ধরনের কোনো রোগবালাই ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে ফসল ঘরে তুলতে সমস্যা হবে না। কৃষি অফিস থেকে তাদের প্রশিক্ষণ ও নির্দিষ্ট সময়ে সঠিক পরামর্শের কারণেই ভালো ফলন হয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় ২৬ হাজার ৪১৪ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। এ অঞ্চলে উফশী জাতের ধান একটু আগেভাগেই কাটা শুরু হয়। তবে স্থানীয় জাতের আমন আরও দুই সপ্তাহ পর কাটা শুরু হবে। বেশিরভাগ জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। তবে নিশানবাড়িয়া, খাউলিয়া, হোগলাবুনিয়া, বলইবুনিয়া, রামচন্দ্রপুর, হোগলাপাশা, বনগ্রামÑ এই সাত ইউনিয়নে বেশি ভালো হয়েছে। এর মধ্যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কারেন্ট পোকার আক্রমণ না হলে কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবে।’