ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৭:৫৮ পিএম
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ না হওয়ায় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মুন্সিরহাট-বার্মাছড়ি সড়ক। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের খিরাম মগকাটা এলাকায়। প্রবা ফটো।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি এবং রাঙামাটি জেলার কাউখালিÑ এই তিন উপজেলার একমাত্র সংযোগ সড়ক মুন্সিরহাট-বার্মাছড়ি সড়ক। ১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের দৌলত মুন্সিরহাট থেকে শুরু হয়ে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বার্মাছড়ি বাজার সড়কের সঙ্গে মিশেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির ছয় কিলোমিটার অংশে অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তিন জেলার তিন উপজেলার মানুষ।
স্থানীয় সূত্র জানায়, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বার্মাছড়ি ও কাউখালি উপজেলার ফটিকছড়ি ইউনিয়নের মানুষ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত করে এই সড়কপথে। এক দশক আগে সাড়ে ছয় কিলোমিটার সড়কের তিন কিলোমিটার অংশ ডাবল ব্রিক সলিন দিয়ে উন্নয়ন করা হয়। এরই মধ্যে অধিকাংশ স্থানে সেই ব্রিক সলিন উঠে গিয়ে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। কিছু অংশ পাশের সর্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে এবং ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। অথচ সড়ক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এটি মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এ ছাড়া সংস্কার না হওয়া অবশিষ্ট তিন কিলোমিটার সড়কের অবস্থা আরও খারাপ।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি অংশে এই সড়কের পাশে রয়েছে লক্ষ্মীছড়ি জোনের খিরাম আর্মি ক্যাম্প, সর্তা বনবিট, খিরাম উচ্চ বিদ্যালয়, তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি তিনটি মাদ্রাসা। সড়কের পাশে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ১০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস। তাদের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে সংযোগ সড়কটিতে উন্নয়নকাজ না হওয়ায় এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। জরুরিভিত্তিতে কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়কের প্রশস্তকরণসহ উন্নয়নকাজ করা দরকার। এতে তিন উপজেলার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত। এর বিভিন্ন অংশে ইট উঠে গেছে। এতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। প্রায়ই সড়কটিতে যানবাহন অচল হয়ে পড়ে। ঘটে দুর্ঘটনাও। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। স্থানীয় বাসিন্দা শান্তি চাকমা বলেন, ‘রাস্তার সমস্যার কারণে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ নারীদের সমস্যা হয় সবচেয়ে বেশি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য পূর্ণ মাসি চাকমা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি অবহেলায় পড়ে আছে। এ সড়ক দিয়ে যান চলাচল করে খুব ধীরে। এতে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক দেরি হয়। এতে জেলা হেডকোয়ার্টার, উপজেলা পরিষদ, এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে জনগণের চিকিৎসা ও দাপ্তরিক কাজে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। জনদুর্ভোগ দূর করতে দ্রুত কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়ন কাজ করা প্রয়োজন।’
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে সড়কটি। হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তাটি সংস্কার করা খুবই জরুরি। সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়ছে। সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে।’ সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কারকাজ করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য কামনা করেন তিনি।
ফটিকছড়ি উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, ‘১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের ছয় কিলোমিটার অংশ খুব খারাপ অবস্থায় আছে। এটি একটি ইউনিয়ন সড়ক। এর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রস্তাবনা দেওয়া আছে। প্রকল্প থেকে অনুমোদন হয়ে গেলে সড়কটি ১৮ ফুট ধরে উন্নয়ন করে দেওয়া হবে।’ এ ছাড়া সড়কটি তিন জেলার সংযোগ সড়ক হওয়ায় আন্তঃজেলা সংযোগ প্রকল্পে প্রস্তাবনা আছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হলে তিন জেলার তিন উপজেলার মানুষ উপকৃত হবে।