স্থাপত্য
নাছির উদ্দিন, কচুয়া (চাঁদপুর)
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:৪২ পিএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১৩:৪৩ পিএম
চাঁদপুরের কচুয়ায় মুঘল শাসনামলে নির্মিত গায়েবি মসজিদ। প্রবা ফটো
চাঁদপুরের কচুয়ায় বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান রয়েছে। এ উপজেলায় ইসলামী সংস্কৃতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনও রয়েছে। উপজেলার আটোমোর পূর্বপাড়া গ্রামে রয়েছে ‘গায়েবি মসজিদ’। এটি বর্তমানে প্রাচীন শাহী জামে মসজিদ নামে পরিচিত। মসজিদটি কবে, কখন ও কীভাবে নির্মিত হয়েছেÑ তা কেউ জানে না। বর্তমানে তার নামকরণ করা হয়েছে আটোমোর পূর্বপাড়া প্রাচীন শাহী জামে মসজিদ নামে।
তবে ধারণা করা হয়, প্রায় ছয়শ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। সেই সময় থেকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রাচীনতম এই মসজিদ আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে অক্ষত অবস্থায়। তবে বর্তমানে মসজিদটিকে বড় আকারে নির্মাণ করছেন এলাকাবাসী।
মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল হক নিজামী বলেন, ‘‘লোকমুখে শুনেছি সম্ভবত মুঘল সম্রাট শাসনামলে এলাকাবাসী বন-জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে মসজিদটির সন্ধান পায়। ওই সময় এলাকায় জনবসতি না থাকায় বন-জঙ্গলে আচ্ছন্ন হয়ে মসজিদটি ঢাকা পড়ে যায়। তখনকার সময়ে স্থানীয় এলাকাবাসী বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে মসজিদটি দেখতে পায়। মুঘল সম্রাটের আমলে কে বা কারা মসজিদটি নির্মাণ করেছে, তা কেউ জানে না। সেই থেকে এলাকার মানুষ মসজিদটিকে ‘গায়েবি মসজিদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছে। তা ছাড়া আগে এক গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটিতে ইমামসহ ৯ থেকে ১০ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারত। বর্তমানে মসজিদে ২০০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারে। মসজিদটি প্রায় ১৮ শতাংশ জমিতে নির্মিত রয়েছে।’’
বর্তমানে মসজিদটিকে বড় আকারে নির্মাণ করছে এলাকাবাসী। এখন বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতি শুক্রবার মুসল্লিরা এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। অনেকে মনের আশা পূরণে মানত করেন বলেও জানান তারা। তবে মসজিদটিকে সংস্কারের জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি সহায়তার পাশাপাশি এলাকার বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা। ওই মসজিদটির পূর্ব পাশে নির্মাণ করা হয়েছে আটোমোর জামালিয়া হাফিজিয়া নূরানিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা।
মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ বায়েজিদ সরকার বলেন, ‘প্রতি শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ মসজিদে মানতের নগদ টাকা প্রদান ও মিষ্টি বিতরণ করেন। তাদের ধারণা, গায়েবি মসজিদে কেউ নিয়ত করলে আল্লাহর অশেষ রহমতে তা পূরণ হয়। আগের চেয়ে মসজিদটি অনেক প্রসারিত হয়েছে। এখনও অনেক কাজ অসমাপ্ত রয়েছে। এদিকে মসজিদ প্রসারিত করতে গিয়ে অনেক টাকার ঋণ হয়েছে। তাই সরকারি-বেসরকারি, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছে এলাকাবাসী।’
আটোমোর পূর্বপাড়া প্রাচীন শাহী জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা নুরুল হক নিজামী বলেন, ‘এ মসজিদের নির্মাতা কে বা কারা, আমরা বলতে পারছি না। আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে শুনেছি এটি গায়েবি মসজিদ। বাহির থেকে অনেক বড় মনে হলেও মসজিদের ভেতরে শুধুমাত্র ২০০ থেকে ৩০০ জন মুসল্লি নিয়ে নামাজ আদায় করা যায়। মসজিদের পূর্বের অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদ ভবন নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে।’
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ হেলাল চৌধুরী বলেন, ‘মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।’