কুতুবদিয়া
হিরু আলম, পেকুয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ০০:৫১ এএম
আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৩৯ এএম
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় মৌসুমের প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। মাঠে কালো পলিথিন বিছিয়ে সেখানে লোনা পানি মজুদ করে লবণ উৎপাদন করেন চাষিরা। মঙ্গলবার দুপুরে ছবি - হিরু আলম
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় মৌসুমের প্রথম লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর উৎপাদন শুরু হয়ে মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) পর্যন্ত ১৬ দিনে উপজেলার লেমশিখালী, কৈয়ারবিল, উত্তর ধুরুং ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের কিছু জমিতে অন্তত ৪৭ মেট্রিক টন লবণ উৎপাদিত হয়েছে।
এদিকে, লবণের ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ কক্সবাজারের কুতুবদিয়া লবণচাষিরা। প্রতি মণ লবণ উৎপাদনে ৩৫০ টাকা খরচ পড়ছে বলে দাবি চাষিদের। তবে গত এক মাস ধরে মাঠপর্যায়ে লবণ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকায়। এ নিয়ে চাষিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন ও সমাবেশও করেছেন চাষিরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী, কৈয়ারবিল, উত্তর ধুরুং ও দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নে লবণ চাষ বেশি হয়ে থাকে। আলী আকবর ডেইল ও বড়ঘোপ ইউনিয়নেও কিছুটা চাষ হয়।
গতকাল কুতুবদিয়ার লেমশিখালী, দক্ষিণ ধুরুং ও উত্তর ধুরুং ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, কয়েক হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হচ্ছে। আরও কয়েক হাজার একর জমি লবণ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই দিন কুতুবদিয়া উপজেলার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা লবণ মাঠের পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন। কেউ লবণ ঝুড়িতে নিয়ে ট্রাকে ভরছেন। আর কেউ লবণ মাঠ সমান করার কাজ করছেন। কেউ কেউ লবণ মাঠে পলিথিন দিচ্ছেন।
চাষিরা জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কুতুবদিয়ার অন্তত সাত হাজার একর জমির শতভাগে লবণ উৎপাদিত হবে। তবে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। তাতে হতাশ চাষিরা।
নজির আহমেদ (৪৫) নামের এক চাষি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রতি মণ লবণ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। অথচ প্রতি মণ লবণের খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫০ টাকা। একই কথা বলেন লেমশীখালীর লবণচাষি আবু তালেবও। তিনি বলেন, প্রতি কানি লবণ মাঠ বর্গা নিতে হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়। লবণ মাঠ, শ্রমিক, পানি, পলিথিন সব মিলিয়ে প্রতি মৌসুমে খরচ হয় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকা। এখন লবণ বিক্রি করে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। চাষিদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
টানা ১৫ বছর লবণ উৎপাদন করছেন কুতুবদিয়া উপজেলা লেমশীখালী ইউনিয়নের স্থানীয় ব্যবসায়ী মতিন মিয়া। গত বছর দুই একর জমিতে তিনি লবণ চাষ করেন। প্রতি মণ লবণ বিক্রি করেন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। এ বছরও তিনি দেড় একরে লবণ উৎপাদন শুরু করেন। কিন্তু দাম ২০০ টাকা হওয়ায় তিনি চরম হতাশ।
আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের জয়নাল আবেদীন (৪৩) বলেন, গত কয়েক বছর লবণে টানা দাম পাওয়ায় মনে হচ্ছে সিন্ডিকেট করে ব্যবসায়ীরা দাম কমিয়ে চাষিদের লবণ উৎপাদনে নিরুৎসাহিত করছে। এতে লক্ষ্য পূরণ না হলে, লবণ সংকট দেখিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে হয়তো। লোকসানে লবণ বিক্রি হচ্ছে দেখে বহু চাষি জমির পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন। তাতে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় লেমশীখালী বিসিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকের হোছাইন বলেন, ‘২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। নতুন করে জমির পরিমাণও জরিপ হয়নি। অন্তত ছয় হাজার ৬০০ একর জমিতে লবণ উৎপাদন হতে পারে।
এ ছাড়া বিসিকের নিজস্ব লবণমাঠ প্রান্তিক চাষিদের মাঝে একসনা লাগিয়ত বণ্টন করার প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।’