চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৩৭ পিএম
আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:৪৫ পিএম
চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘটে অলস বসে থাকা লাইটার জাহাজ। ছবি : প্রবা
মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় ফের ধর্মঘট শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য পরিবহনকারী নৌযানের শ্রমিকেরা।বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১০ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ এই ধর্মঘট পালন করছে। ধর্মঘটের কারণে লাইটারেজ জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন রুটে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।
কর্ণফুলী নদীর ১৭টি ঘাট এবং বর্হিনোঙরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেলে কর্মরত শ্রমিকেরা শনিবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১২টা থেকে ধর্মঘট শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর এবং বর্হিনোঙর থেকে সারাদেশে নৌরুটে চলাচলরত লাইটারেজ জাহাজগুলোতে অন্তত ৩০ হাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন বলে দাবি করে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। শ্রমিকেরা মাদার ভেসেলে করে আমদানি করা পণ্য খালাস করে লাইটারেজ জাহাজে তুলে দেয়। সেই লাইটারেজ জাহাজগুলো সারাদেশের নৌরুটে চলাচল করে।
বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি শেখ মোহাম্মদ ঈছা মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, ১০ দফা দাবিতে ধর্মঘট শুরু করেছে নৌযান শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ। শ্রমিকদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে নৌযান শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, মৃত্যুকালীন ভাতা দুই লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নিতকরণ এবং ভারতের বন্দরে ল্যান্ডিং পাস দেওয়া।
দাবির বিষয়ে মোহাম্মদ ঈছা মিয়া বলেন, প্রতি পাঁচ বছর পরপর শ্রমিকদের মুজরি কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়। গত ছয় বছর আগে বেতন কাঠামো পুনর্গঠন হলেও এখন মন্ত্রণালয় কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন। শ্রমিকদের বেতন আগের মতোই রয়ে গেছে।
ভারতের বন্দরে ল্যান্ডিং পাসের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বন্দরে ভারতীয় জাহাজ এলে নাবিক-শ্রমিকেরা ঘোরাঘুরি করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশের জাহাজ ভারতের বন্দরে গেলে কারাবন্দির মতো জাহাজে দিন কাটাতে হয়। আমরা ভারতের বন্দরে নামতে পারি না। এই কারণে ল্যান্ডিং পাস দাবি করছি।
চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে অবস্থানরত মাদার ভ্যাসেল থেকে পণ্য খালাস বন্ধ করে দেওয়ায় কর্ণফুলী নদীতে লাইটারেজ জাহাজগুলো অলস পড়ে আছে। ধর্মঘটের বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করা হবে।