জয়পুরহাট
চম্পক কুমার, জয়পুরহাট
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১০:২১ এএম
নবান্ন উপলক্ষে রবিবার ভোরে জয়পুরহাটের কালাই পৌর শহরের পাঁচশিরা বাজারে বসে মাছ মেলা। মেলা ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ দেখা যায়। প্রবা ফটো
দোকানে থরেথরে সাজানো বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। দামও বিভিন্ন রকম। ক্রেতারা আসছেন, দরদাম করছেন, কেনাকাটা করছেন। নবান্ন উৎসবে এক দিনের মাছের মেলা ঘিরে করা হয়েছে এমন আয়োজন। রবিবার (১৭ নভেম্বর) জয়পুরহাটের কালাই পৌর শহরের পাঁচশিরা বাজারে ভোর থেকে বসে এই মেলা। বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উৎসব নবান্ন উপলক্ষে বসা মাছের এই মেলা ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দেয়।
মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নবান্ন উপলক্ষে প্রায় এক যুগ আগে থেকে প্রতিবছর অগ্রহায়ণের নবান্নের দিন এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় বড় বড় দেশীয় প্রজাতির মাছ কেনাবেচা হয়। এ উপলক্ষে এলাকার জামাই-মেয়ে ও আত্মীয়-স্বজনকে নিমন্ত্রণ করা হয়। জামাই ও শ্বশুররা মেলায় বড় বড় মাছ কেনেন। এবার আমন ধানের দাম ভালো থাকায় মেলায় বড় মাছ কেনাবেচা বেশি হচ্ছে। সর্বোচ্চ ১৯ কেজির একটি কাতল মাছ ওঠে। সেটি ২১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের নানা প্রজাতির মাছ ওঠে।
সরেজমিনে মাছের মেলায় গিয়ে দেখা যায়, রঙিন কাপড়ে ঘেরা বিশাল প্যান্ডেলের ভেতর চৌকিতে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে দেশীয় নানা প্রজাতির বড় বড় মাছ। ছোট ও মাঝারি আকারের মাছও রয়েছে। এসব মাছের দোকানগুলোর সামনে ঝুলছে নানান রঙের বেলুন। দোকানগুলোতে বড় বড় রুই, কাতলা, ব্রিগেড, সিলভার কার্প, কালবাউশসহ অনেক প্রজাতির মাছ রয়েছে। ভোর থেকেই এসব মাছ সাজিয়ে দোকান নিয়ে সারি বেঁধে বসে মাছ বিক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা দাম হাঁকছেন আর ক্রেতারা দরদাম করছেন। লোকজনও ব্যাপক উৎসাহের সঙ্গে মাছ কিনছেন। অনেকে আবার মেলা দেখতে এসেছেন।
মেলার পাশের পাঁচ গ্রামে বেড়াতে এসেছেন রুবিনা বেগম। তিনি বলেন, পাঁচ গ্রামে স্বামীকে নিয়ে মাছের মেলায় ঘুরতে এসেছি। পাঁচশিরা মাছের মেলার নাম আগে থেকেই জানি। কিন্তু কখনও আসা হয়নি। তিনি বলেন, এবার মেলায় এসে বড় বড় মাছ দেখছি। অনেক ভালো লাগছে। ঘুরেফিরে মেলা থেকে স্বাদ ও সাধ্য অনুযায়ী পছন্দের একটি বড় মাছ কিনলাম ৩২০০ টাকায়।
মেলায় মাছ কিনতে আসা শাহিনুর রহমান শাহিন নামে এলাকার এক জামাই বলেন, অন্য বছরের চেয়ে এবার মেলায় বড় মাছের আমদানি অনেক বেশি। মেলা থেকে আট কেজি ওজনের একটি কাতল মাছ কিনে শ্বশুরবাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।
মেলায় মাছ বিক্রেতা রায়হান আলী বলেন, মাছের মেলায় বড় পুকুর, দীঘি ও নদী থেকে নানা প্রজাতির বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। বড় কাতল মাছ এক হাজার ও মাঝারি আকারের ১০ কেজির নিচে কাতলা মাছ ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা বেশি। তাই মাছও বিক্রি হচ্ছে বেশি।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম বলেন, এই মেলা ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ উপলক্ষে স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ী এবং মাছচাষিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। মেলায় কেউ যেন বিষযুক্ত মাছ বিক্রি করতে না পারে, সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।