× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চট্টগ্রাম বন্দর

অগ্নিঝুঁকি রোধে কঠোরতা আইন না মানলে জরিমানা

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১০:০৮ এএম

অগ্নিঝুঁকি রোধে কঠোরতা আইন না মানলে জরিমানা

এক সপ্তাহের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরীণ জলসীমায় পরপর দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অগ্নিঝুঁকি রোধে তৎপর হয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় সম্প্রতি বন্দরের অভ্যন্তরে জাহাজে ওয়েল্ডিংসহ বিভিন্ন ধরনের হটওয়ার্ক পরিচালনার বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। ওই নীতিমালা অনুযায়ী, হটওয়ার্ক শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে নিতে হবে অনুমোদন। কাজ করার সময় মেনে চলতে হবে নীতিমালার নিয়মকানুন। না হলে গুনতে হবে জরিমানা। গত ১৩ নভেম্বর স্টেকহোল্ডারদের চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমদানি-রপ্তানি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজে কাজের গতিশীলতা আনতে অনেক সময় ওয়েলডিংসহ বিভিন্ন ধরনের হটওয়ার্ক করার প্রয়োজন পড়ে। আগে জাহাজের ক্যাপ্টেনের নির্দেশনা অনুযায়ী যেকোনো সময় এসব হটওয়ার্ক কাজ করা যেত। কিন্তু সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ হটওয়ার্ক করার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা (এসওপি) প্রণয়ন করেছে। গত ১৩ নভেম্বর আমাদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, এখন থেকে এই নীতিমালা মেনেই হটওয়ার্ক কাজ পরিচালনা করতে হবে। চিঠিতে জানানো হয়েছে, ওই নীতিমালার কোনো বিধান অমান্য করলে ৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হবে।’

সাম্প্রতিক দুটি দুর্ঘটনা

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে মাদার ভ্যাসেল ওমেরা লিগ্যাসি থেকে ১১ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল নিয়ে ডলফিন জেটিতে আসে। মাদার ভ্যাসেল থেকে নিয়ে আসা তেল খালাসের সময় বেলা ১১টার দিকে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে জাহাজের একজন ক্যাডেটসহ তিনজন দগ্ধ হয়ে মারা যান। ‘বাংলার জ্যোতি’ জাহাজে বিস্ফোরণের ৫ দিনের মাথায় গত শুক্রবার দিবাগত রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ‘বাংলার সৌরভে’। খবর পেয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জাহাজের স্টুয়ার্ড সাদেক মিয়া নিহত হন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পরপর দুটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বন্দরের অভ্যন্তরে অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি সবার নজরে আসে এবং অগ্নিঝুঁকি রোধে তৎপর হয় কর্তৃপক্ষ। 

যা আছে চিঠি ও নির্দেশনায়

স্টেকহোল্ডারদের কাছে গত ১৩ নভেম্বর পাঠানো বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বন্দরে আসা জাহাজে কাজের গতিশীলতা আনার জন্য ও অপারেশনাল কাজের ক্ষেত্রে অনেক সময় হটওয়ার্ক করার প্রয়োজন পড়ে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় স্থাপনা এবং যন্ত্রপাতিতে হটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। অপারেশনাল প্রয়োজনে হটওয়ার্ক সম্পাদনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা অনস্বীকার্য। এখন থেকে যেকোনো হটওয়ার্কের ক্ষেত্রে এই নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এই নীতিমালার কোনো বিধান অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সার্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করা হবে।’

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানাচ্ছে, অগ্নিঝুঁকি রোধে যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে সেখানে ২২টি বিধানকে অবশ্যই মান্য করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব বিধানের মধ্যে রয়েছেÑ বন্দর কর্তৃপক্ষের কোনো বিভাগ কর্তৃক নিয়োজিত কোনো ঠিকাদার হটওয়ার্ক কাজ করতে আগ্রহী হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদন সাপেক্ষে হটওয়ার্ক কাজ শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে চেয়ারম্যানের অনুমোদন নিতে হবে। একইভাবে জাহাজে কোনো ধরনের হটওয়ার্ক কাজ পরিচালনা করতে হলে (শিপিং এজেন্ট, ক্রু অথবা ঠিকাদারের মাধ্যমে) কাজ শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এই ক্ষেত্রে যেকোনো হটওয়ার্কের অনুমতির মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত দিন। অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হলে পুনরায় আবেদন করতে হবে। অনুমোদন নিয়ে যে বা যারা হটওয়ার্ক কাজ করবেন, তারা অনুমোদনের কপি বন্দর কর্তৃপক্ষের ফায়ার শাখায় দেবেন। এ ছাড়া যে সময় হটওয়ার্ক কাজ আরম্ভ করা হবে, তার কমপক্ষে দুই ঘণ্টা আগে বন্দর ফাায়ার সার্ভিসকে জানাতে হবে। যারা হটওয়ার্ক কাজ করবেন তারা ওই নির্দিষ্ট এলাকা বা জাহাজের অগ্নি নিরাপত্তার জন্য ফায়ার সদস্যদের পরামর্শ অনুসারে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন। একসময়ে শুধুমাত্র এক পয়েন্টে হটওয়ার্ক করা যাবে। একাধিক পয়েন্টে একসঙ্গে হটওয়ার্ক করতে হলে প্রতি পয়েন্টের জন্য আলাদা আলাদা ফায়ার সদস্য বুকিং করতে হবে অথবা একটি পয়েন্টের কাজ সম্পন্ন হলে আরেকটি পয়েন্টে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। 

অবশ্যই পালনীয় বিধানের মধ্যে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ফায়ার ফাইটারের উপস্থিতিতে দিনের বেলায় বিকাল ৫টা পর্যন্ত হটওয়ার্ক কাজ করা যাবে। হটওয়ার্ক কাজ চলাকালীন সময়ে তেলের পাইপলাইনে তেল থাকতে পারবে না। জেটিতে কাজ করার সময় তেলজাতীয় পদার্থ ও ময়লা আবর্জনা যাতে নদীতে পড়ে নদী বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়ে আইএসপিএস কোড বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রযোজ্য সকল প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। হটওয়ার্ক সম্পন্ন করার সময় বন্দরের কোনো স্থাপনা বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ক্ষতি হলে হটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান তার সম্পূর্ণ দায়ভার বহন করবে।

যা বলছে বন্দর কর্তৃপক্ষ

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বন্দর খুবই স্পর্শকাতর এলাকা। এখানে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে অনেক বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। একইভাবে জাহাজে কোনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই অগ্নিঝুঁকি রোধে বন্দর কর্তৃপক্ষ এই হটওয়ার্ক নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এখন থেকে বন্দরের অভ্যন্তরে ওয়েলডিংসহ কোনো হটওয়ার্ক করতে গেলে এই নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক, না হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা গুনতে হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা