বগুড়ায় নবান্ন উৎসব
বগুড়া অফিস
প্রকাশ : ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ১০:০৩ এএম
শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী হাটের মেলায় বিক্রির জন্য আনা হয় বিভিন্ন মাছ। প্রবা ফটো
পহেলা অগ্রহায়ণ থেকে ‘নবান্ন’ উপলক্ষে বগুড়ার গ্রামে গ্রামে বসে মেলা। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মেলা অনুষ্ঠিত হলেও প্রাচীনতম হলো শিবগঞ্জ উপজেলার উথলী হাটের মেলা। ৩০০ বছরের প্রাচীন এক দিনের এ মেলা বসেছিল রবিবার (১৭ নভেম্বর)। মেলায় হরেক রকম পণ্যের পসরা থাকলেও প্রধান আকর্ষণ ছিল মাছ।
প্রতি বছরই পার্শ্ববর্তী জেলা-উপজেলার বিভিন্ন বিল, পুকুর এবং নদীর রুই, কাতল, মৃগেল, ব্রিগেড, সিলভার কার্প, পাঙাশের পাশাপাশি চিতল, কালবাউশ মাছ ওঠে ওই মেলায়। এবার এক দিনের ওই মেলায় ছোট-বড় দেড় শতাধিক দোকানে সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ১০ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। মাছগুলো প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়।
হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের পুরুষরাই শুধু নন, দূর-দূরান্ত থেকে নারীরাও এসেছিলেন পছন্দের মাছ কিনতে। মেলায় শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগর দোলার পাশাপাশি রসগোল্লা ও জিলাপির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফাস্ট ফুডেরও দেখা মিলেছে।
নবান্নের মেলা উপলক্ষে উথলীর পাশাপাশি আশপাশের অন্তত ২০ গ্রামের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। মেলা এক দিনের হলেও আশপাশের গ্রামের মেয়েরা তাদের জামাইদের নিয়ে বাবার বাড়িতে এসেছেন কয়েকদিন আগে।
বেলা ১১টার দিকে ভিড় ঠেলে মেলায় ঢুকতেই দিয়া মোদক নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীর দেখা মেলে। তিনি তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। দিয়া বলেন, ‘প্রতি বছর নবান্নের এই মেলায় আসি। এবারও এসেছি। বাবাকে সঙ্গে নিয়ে মাছের দোকানগুলো ঘুরে ঘুরে সবচেয়ে বড় মাছ কিনি। এরপর বাচ্চাদের জন্য মিষ্টি কিনে থাকি।’ বগুড়া শহরের মালতিনগরের বাসিন্দা শাহীন মোস্তফা ফারুক বলেন, ‘এ মেলার অনেক নাম শুনেছি। কিন্তু কখনও আসা হয়নি। এবার ছেলেকে নিয়ে এলাম। ভালো লাগছে।’
মাছ বিক্রেতা শিবগঞ্জ উপজেলার চালুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল জানান, তিনি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই মেলায় মাছ বিক্রি করছেন। এবারও রুই, কাতল, সিলভার কার্প এবং ব্রিগেডসহ বিভিন্ন ধরনের ১২ মণ মাছ এনেছেন। তিনি বলেন, মাছগুলো নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে এনেছি। এবার বড় মাছের ক্রেতা কম। অধিকাংশ মানুষ মাঝারি ও ছোট সাইজের মাছ কিনছে।’
বগুড়া লেখক চক্রের সভাপতি ইসলাম রফিক জানান, নবান্ন উপলক্ষে বগুড়ার গ্রামাঞ্চলে হাটবাজারসহ বড় বড় গাছ বিশেষত বটগাটের নিচে মেলা আয়োজনের রীতি দীর্ঘদিনের। এবারও তার কমতি ছিল না। কোনো কোনো স্থানে তো নবান্নের দুদিন পর বাসি নবান্নেরও মেলা বসে।