আইনশৃঙ্খলা
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৩৯ এএম
হারিছ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরীকে নিয়ে সৃষ্ট রহস্যের জট ক্রমশ খুলছে। এতে অপেক্ষার যেন অবসান ঘটতে চলেছে।
ঢাকার সাভারে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা মরদেহটিই হারিছ চৌধুরীর। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। গত ৬ নভেম্বর আদালতে সেই ডিএনএ রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। ওই ডিএনএ রিপোর্ট সম্পর্কে সাভার মডেল থানার ওসি জুয়েল মিয়া বলেন, ‘আমরা ডিএনএ রিপোর্টটি আদালতে জমা দিয়েছি। রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আর লাশটি হারিছ চৌধুরীরই বলে জানা গেছে।’
এর আগে গত ২১ অক্টোবর হাইকোর্টের আদেশে বিএনপির সাবেক নেতা হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নিশ্চিত করতে তার মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ডিএনএ নমুনা জমা দেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, সাভারে ২০২১ সালে মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা লাশটি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর কি না, তা নিশ্চিত হতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের নির্দেশে গত ১৬ অক্টোবর সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কমলাপুর জালালাবাদ এলাকার জামিয়া খাতামুন্নাবিয়্যীন মাদ্রাসা কবরস্থান থেকে ডিএন পরীক্ষার জন্য মাহমুদুর রহমান নামে দাফন করা মরদেহটি তোলা হয়।
ওই দিন ১৬ অক্টোবর সাভার থানায় হারিছ চৌধুরীর লাশ উত্তোলন করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছিল। সেই জিডির রেফারেন্সে ডিএনএ পরীক্ষা হয়।
বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় হারিছ চৌধুরী ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব। এ ছাড়া তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিবেরও দায়িত্বে ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে আর প্রকাশ্যে ছিলেন না তিনি।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তার মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে এর আগে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সময় সামিরা তানজিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর তার বাবা আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি দেশ ছেড়ে কোথাও যাননি। এ ছাড়া নিজের পরিচয় নিয়ে দেশে থাকার মতো পরিবেশও ছিল না, এজন্য তিনি বাধ্য হয়ে পরিচয় পরিবর্তন করেন। মাহমুদুর রহমান নামে তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল। তার পাসপোর্টে ওমরাহ করার জন্য ভিসা লাগানো ছিল, তবুও তিনি দেশ ছাড়েননি। সাভারে দাফন করা মাহমুদুর রহমান নামের ব্যক্তি আমার বাবা হারিছ চৌধুরী এবং তিনি বাংলাদেশেই মারা গেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘২০২১ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাবা মারা যাওয়ার পর আমি কখনই তার পরিচয় গোপন করিনি। দাদাবাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু আমাকে ওই সময়ের স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে বাধা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে সাভারে কবর দেওয়া হয়। বাবার মৃত্যু নিয়ে ধুম্রজাল থাকতে পারে না।’
জানা যায়, হারিছ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা হয়। এ ছাড়া দুদকের দুর্নীতি মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার যথাক্রমে তিন ও সাত বছরের জেল এবং ১০ লাখ টাকা জরিমানা হয়। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন আদালত। ২০১৮ সালে ইন্টারপোলে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিস ইস্যু করা হয়।
হারিছ চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দিঘিরপাড় পূর্ব ইউনিয়নের দর্পনগর গ্রামে। তার নানাবাড়ি ভারতের আসামে করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরে। তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন।