প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৪৭ এএম
আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৬:২৮ পিএম
অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক অদুত রহমান। ছবি : সংগৃহীত
১২ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে কলেজ শিক্ষক চাচার বিরুদ্ধে। ঘটনার পর আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য যেতে না দিয়ে কৌশলে ঘরে আটকে রাখার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কবিরপুরে। ছয় বছর আগে একটি দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর ডান হাত কবজি থেকে কেটে আলাদা হয়ে যায়।
অভিযুক্ত কলেজ শিক্ষক অদুত রহমান লাঙ্গলবাঁধ আদিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
মামলার বিবরণে ও ভুক্তভোগীর পরিবারসূত্রে জানা যায়, ১৫ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে কিশোরীটি দর্জিবাড়ি থেকে বাড়ি ফেরার পথে জরুরি প্রয়োজনের কথা বলে চাচা অভিযুক্ত অদুত রহমান তাকে একটি টিনশেড ঘরে নিয়ে মুখে ওড়না পেঁচিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।
ভুক্তভোগীর মা বলেন, মেয়েকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে অদুতের ঘর থেকে সাড়া দেয় তার মেয়ে। এ সময় ঘর থেকে বেরিয়ে এসে সবকিছু খুলে বলে মাকে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠান।
তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, অদুত রহমানের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা তাদেকে সদর হাসপাতালে যেতে না দিয়ে কৌশলে নজরদারি করে বেশ কয়েক দিন আটকে রাখেন। এ সময় তাদের মোবাইলও ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি।
পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর নানাবাড়ির লোকজনের সহায়তায় তারা পালিয়ে যান এবং ২৯ সেপ্টেম্বর শৈলকুপা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯ (১) ধারায় অদুত রহমানকে আসামি করে মামলা করেন।
সরেজমিনে কবিরপুরে অভিযুক্ত অদুতের বাড়ি গিয়ে তার বাসা তালাবদ্ধ দেখা যায়। পাশের আঙিনায় তার মা, বাবা, ভাই এবং ভাইয়ের বউকে পাওয়া যায়। তারা অদুতের সন্ধান জানেন না বলে দাবি করেন। কিন্তু কেউই ক্যামেরায় কথা বলতে রাজি হননি। এ সময় অভিযুক্তের ছোট ভাইয়ের বউ পরিচয় দিয়ে ফারজানা নামে একজন নারী ধর্ষণের বিষয়টিকে সাজানো নাটক বলে অভিহিত করেন।
তিনি অভিযুক্ত অদুত রহমানের পালিয়ে থাকাকে সমর্থন করে আরও বলেন, মামলা হওয়ার পর পরিবারের মানসম্মানের কথা ভেবে অদুত আত্মগোপনে চলে গেছেন।
তার ছোট ভাই আবদুল হান্নান জানান, অদুত যদি অপরাধ করে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুম খান বলেন, থানায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। ঘটনার দিন কিশোরীর পরনে থাকা কাপড়টি ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে বলেও তিনি জানান।