মোহনগঞ্জ
হাওরাঞ্চল (নেত্রকোণা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরের কুঁড় নামক একটি উন্মুক্ত জলাশয়ে এলাকার সাধারণ লোকজনকে মাছ ধরতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গেইরাহাইর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল আলম থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই এলাকার মাসুদ মিয়া, ফারুক মিয়া, হৃদয় মিয়া, জামাল মিয়াসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) মোহনগঞ্জ থানার ওসি আমিনুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উন্মুক্ত জলাশয় ইজারা দেওয়া সম্পূর্ণ বে-আইনি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডিঙ্গাপোতা হাওরের অধীনে শ্যামপুর মৌজায় প্রায় ৫ একর খাস জায়গা নিয়ে শ্যামপুরের কুঁড় নামক ওই উন্মুক্ত জলাশয়টির অবস্থান। জলাশয়টির আশপাশের জমির মালিকগণ উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের শ্যামপুর, গেইরাহাইর, নওগাঁ ও নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। যুগ যুগ ধরে ওইসব গ্রামের লোকজন উন্মুক্ত জলাশয়টি থেকে বোরো জমিতে সেচ দেওয়া, গরু-বাছুরকে গোসল করানোর পাশাপাশি মাছ ধরে আসছিলেন। হাওর থেকে বর্ষার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে গত প্রায় এক মাস ধরে জলাশয়টি মাসুদ মিয়া, ফারুক মিয়া, হৃদয় মিয়াসহ এলাকার ২২ জন প্রভাবশালী বাঁশ ও কাটা পুঁতে দখলে নেন। সেখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাছ ধরে বিক্রি করে আসছেন। এলাকার সাধারণ লোকজন মাছ ধরতে গেলে বাধা দিচ্ছেন। এমনকি সাধারণ লোকজনের জাল ও নৌকা আটকে রেখে দেন। ভয়ে সেখানে কেউ মাছ ধরতে যাচ্ছে না।
জলাশয়টি ২০০৮ সালে উপজেলা প্রশাসনের থেকে ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। প্রশাসনের এ প্রস্তাবটি বাতিল চেয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়। আদালত জলাশয়টি জনস্বার্থে উন্মুক্ত ঘোষণা করে রায় দেন।
অভিযুক্ত মাসুদ মিয়া বলেন, মূলত এ জলাশয়টি চার গ্রামের সম্পদ। প্রতি বছর চার গ্রামের লোকজন কয়েক মাসের জন্য ইজারা দেই। ইজারার টাকা চার গ্রামের মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। গত দুই বছর আতিক মিয়া ওই জলাশয়টি গ্রামবাসীর কাছ থেকে ইজারা নিয়ে কোনো টাকা দেয়নি। এবারও সে ব্যর্থ হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অভিযোগটি করেছে।