× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কোকো ট্র্যাজেডি : যে দুর্বিষহ স্মৃতি আজও কাঁদায় স্বজনহারাদের

ভোলা সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ০৯:১১ এএম

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২ ১৪:২৭ পিএম

ডুবে যাওয়া লঞ্চ কোকো। ফাইল ফটো

ডুবে যাওয়া লঞ্চ কোকো। ফাইল ফটো

২০০৯ সালের এই দিনে লালমোহনের তেঁতুলিয়া নদীতে ডুবে যায় এমভি কোকো-৪ নামের লঞ্চ। ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৮১ যাত্রী। লঞ্চ দুর্ঘটনার পর এক এক করে পেরিয়ে গেছে ১৩ বছর। কিন্তু মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনায় স্বজনহারা মানুষের কান্না এখনও থামেনি। 

১৩ বছরেও মেয়ের কথা ভুলতে পারেননি লালমোহনের মনোয়ারা বেগম। তিনি এখনও মেয়ের কথা মনে করে কাঁদেন। মেয়ে ও নাতনির কবরের পাশে বসে থাকেন। স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ওই লঞ্চ দুর্ঘটনায় মেয়ে হোসনে আরা বেগম ও নাতনি লিমাকে হারিয়েছেন তিনি।

মনোয়ারা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ঈদ করতে পরিবারসহ ঢাকা থেকে লালমোহনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তার মেয়ে। ওই লঞ্চডুবিতে মেয়ে ও দুই বছরের নাতনি মারা যান। এমন পরিস্থিতি হবে তা কখনও ভাবেননি। সেই দুর্বিষহ স্মৃতি আজও তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাকে।

কেবল মনোয়ারা বেগম নন, তার মতো অনেকেই সেদিন আপন মানুষ হারিয়েছেন। স্বজন হারানোর শোকে কাতর ওই সব পরিবার।

সন্তানহারা এক মা

কোকো-৪ লঞ্চ দুর্ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ মা, সন্তান কেউ বা ভাই-বোন আর পরিবারের উপর্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে। তাদের হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো। এখনও সেই স্মৃতি মনে করে কাঁদেন তারা।

তবে দুর্ঘটনার ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারগুলোকে সামান্য কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কারও খোঁজখবর নেয়নি।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে এরকম দুর্ঘটনা ঘটলেও আজও ধারণক্ষমতার বেশি যাত্রী নিয়ে চলে অধিকাংশ লঞ্চ।

কোকো-৪ দুর্ঘটনায় লালমোহন উপজেলার চরছকিনা গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে নূরে আলম সাগর, তার সদ্যবিবাহিত স্ত্রী ইয়াসমিন, শ্যালিকা হ্যাপি বেগম মারা যান। নূরে আলম ঈদুল আজহা উপলক্ষে নববধূ ও শ্যালিকাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু সেই দুর্ঘটনায় তিনজনেরই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

লঞ্চ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া একই গ্রামের সামসুন্নাহার বলেন, দুর্ঘটনার সময় হাত থেকে পড়ে গিয়ে তার আট বছর বয়সি মেয়ে সুরাইয়া মারা যায়। তিন দিন পর তার লাশ পাওয়া যায়।

সন্তান হারানো মা হাজেরা বিবি বলেন, ‘আজ ছেলে বেঁচে থাকলে তাকে বিয়ে করাতাম। ছেলের রোজগারে সংসার চলত। কিন্তু কোনো স্বপ্ন পূরণ হলো না।’

দুর্ঘটনায় নিহত সোহাগের মা সুফিয়া বেগম বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে এসে লঞ্চ ডুবে মারা যান তার ছেলে।

ওই গ্রামের বাকলাই বাড়ির শামসুন নাহার স্বামী, সন্তান, দেবরসহ একই বাড়ির ১৬ জন নিয়ে কোকো লঞ্চে রওনা হয়েছিলেন বাড়িতে। কিন্তু ঘাটে ভেড়ার আগেই ডুবে যায় লঞ্চটি। এতে নিহত হয় তার মেয়ে সুরাইয়া (৭), ভাশুরের মেয়ে কবিতা (৩) ও দেবর সোহাগ (১৩)। সেই থেকেই শামসুন নাহার আদরের মেয়ের শোকে কাতর।

একই এলাকার হাজেরা বেগম হারিয়েছেন তার ছেলে কবিরকে। তিনিও বাকরুদ্ধ।

তারা বলেন, ঢাকা থেকে ফেরার পথে লঞ্চ দুর্ঘটনায় আমাদের সন্তানরা মারা গিয়েছে। আমরা এখনও এর বিচার চাই।

সেদিনের সেই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির কথা মনে করে শোকসাগরে ভাসছে পুরো দ্বীপজেলা, বিশেষ করে লালমোহন উপজেলা।

লালমোহন উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘লঞ্চ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এত মানুষের প্রাণ গেছে। কিন্তু লঞ্চ মালিক পক্ষ কারও খোঁজখবর নেয়নি। তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

লালমোহন থানার ওসি মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘লঞ্চ দুর্ঘটনায় ২০০৯ সালের ৩০ নভেম্বর লালমোহন থানায় আটজনকে আসামি করে একটি মামলা হয়। ২০১১ সালে পুলিশ ওই মামলার চার্জশিট দিয়েছে। মামলাটি এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।’

ভোলার সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধূরী শাওন বলেন, লালমোহনের ইতিহাসে এটি একটি ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা। সেই দুর্ঘটনায় ৮১ জন মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দোষী লঞ্চ কর্তৃপক্ষের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকা থেকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রী নিয়ে লালমোহনের উদ্দেশে ছেড়ে আসে লঞ্চটি। রাতে লালমোহনের নাজিরপুর ঘাটের কাছে এসে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ডুবে যায় লঞ্চটি। কোকো ট্র্যাজেডিতে লালমোহনের ৪৫, চরফ্যাশনের ৩১, তজুমদ্দিনের ২ ও দৌলতখানের ৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা