যশোর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:১৪ পিএম
আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৮ পিএম
ভূমিহীন না হয়েও যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ৮ নম্বর হরিহরনগর ইউনিয়নে মধুপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬টি ঘর বাগিয়েছেন আলতাব হোসেন নামে এক ব্যক্তি। শুধু তাই নয় এসব ঘরের তিনটিতে এসিও লাগিয়েছেন।
রাজনৈতিক নেতা ও হরিহরনগর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘর বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘরগুলোর দুটি ব্যবহার করছে তিনি তার দুই স্ত্রী। দুটি ব্যবহার করছেন তার শালী চায়না বেগম। অপর দুটি ব্যবহার করছেন তার ভাইপোর স্ত্রী শিউলী বেগম।
স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘হরিহরনগর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম কর্মরত অবস্থায় আশ্রয়ণ প্রকল্প, নামপত্তন বা নামজারি ও সরকারি জমি বন্দবস্ত দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গেছে। তার বাস্তব উদারহরণ আলতাব। তিনি ঘরপ্রতি দুই লাখ টাকা দিয়ে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬টি ঘর বাগিয়ে নিয়েছেন। ছয়টি ঘরের তিনটিতে লাগিয়েছেন এসিও। শুধু তাই নয়, নায়েব শহিদুল ইসলাম হরিহরনগরে থাকাকালীন সময়ে নামপত্তন বা নামজারিতে লাখ লাখ টাকা কামাই করেছেন। তিনি প্রতিটি নামজারি বাবদ ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা আদায় করেছেন।
বিষয়টি জানতে মনিরামপুর হরিহরনগর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘তিন বছর আগেই ঘর দিয়েছি। তাই তাকে কয়টি ঘর দেওয়া হয়েছে সেটা আমার মনে নেই।’
ঘরে এসি লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে গরিব ছিল। এখন ধনী হয়েছে। তাই এসি লাগিয়েছে। ভূমিহীন ব্যক্তি ছাড়া কেউ যদি ঘর পেয়ে থাকে তাহলে বর্তমানের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা সহকারী ভূমি কমিশনার সেগুলো বাতিল করতে পারবে। তাই এটি নিয়ে উৎবেগের কোনো কিছু নেই।’
এ বিষয়ে জানতে হরিহরনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘর বরাদ্দের বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নায়েব মিলে ঘর দেওয়ার বিষয়টি চুড়ান্ত করে। তাই বিষয়টি তারাই ভাল বলতে পারবেন।’
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তন্তরে অনিয়ম ও এসি থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার নিয়াজ মাখদুম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি এখানে যোগদান করার আগেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর হস্তন্তর করা হয়েছে। তাই আমি বিষয়টি জানি না। তবে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে এসি লাগানোর বিষয়ে জানতে পেরেছি। তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় সে বিষয় আলোচনা চলছে। এর পরেই তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’