নিয়ন দুলাল, লালমনিরহাট
প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১২:০৬ পিএম
লালমনিরহাটের বড়বাড়ি ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে ধনেপাতার চাষ হচ্ছে। প্রবা ফটো
ধনেপাতা চাষ করে মাত্র এক মাসেই লালমনিরহাট জেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের সোনাতোলা গ্রামের অনেক কৃষকের ভাগ্যবদল হওয়ার পথে। তারা এখন লাখপতি। কম খরচে ও অল্প দিনেই অধিক লাভ হওয়ায় ধনেপাতা চাষে ঝুঁকে পড়েছেন এখানকার কৃষকরা। লাভজনক করতে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা চান কৃষকরা।
পুষ্টিকর ও সুস্বাদু মসলার মধ্যে ধনেপাতা অন্যতম। দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিক লাভজনক ফসল হিসেবে এই গ্রামের কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই মসলা ফসল। লালমনিরহাটের বড়বাড়ি ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের চরবাসুরিয়া এলাকার কৃষকরা তাদের কৃষিজমিতে রবিশস্য হিসেবে ধনেপাতা চাষ করে এক বিঘা জমিতে মাত্র এক মাসেই লাখ টাকা আয় করছেন। সময় ও খরচ কম হওয়ায় একই জমিতে একাধিকবার ধনেপাতা চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিন শতাধিক চাষি।
সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শুধু ধনেপাতা আর ধনেপাতা। চাষিরা তাদের জমিতে ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত। প্রখর রোদে কেউ ধনেপাতা তুলছেন, কেউ আবার সার দিচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা এসেছেন ধনেপাতা কিনতে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত কৃষকরা আগেই পাইকারি দরে বিক্রি করেছেন। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা এসব ক্ষেত নিজেরা পরিচর্যা করে দেশের বিভিন্ন আড়তে পাঠিয়ে থাকেন।
স্বল্পমেয়াদি ফসল ধনেপাতা। বীজ বোনার পর ফসল তুলে ৩০-৩৫ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা সম্ভব। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে মাত্র ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ করে ৩০-৩৫ মণ ধনেপাতা উৎপাদন হয়। এতে বাজারে বিক্রি করে এক লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা কৃষকরা আয় করছেন। চাষকৃত ধনেপাতা জমিতে কাজ করছেন ৫ শতাধিক শ্রমিক। এর ফলে কর্মসংস্থান হয়েছে এই গ্রামের মানুষের।
কৃষক এরশাদুল ইসলাম বলেন, ‘এই ক্ষ্যাতটা হইছে একমাসি ক্ষ্যাত। ২৫ থাকি ৩০ দিনের মধ্যে ভালো ফলন হচ্ছে। প্রথম থেকেই আমি সাত হাজার টাকা ধনেপাতা ক্ষেত থেকে বাজারে বিক্রি করেছি। বর্তমানে ৪ হাজার টাকা মণ। ধনেপাতা আবাদের টাকা দিয়ে আমি দোকান দিয়েছি, নতুন বাড়ি করেছি, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতেছি।’
চাষি আবুল কাশেম বলেন, ‘ধনেপাতা হলো এক মাসি আবাদ বাহে, এক মাস পর ফসল তুলি বিক্রি করি ফির ওই জমিত ধনেপাতা আবাদ করছি লাভের আশায়। এই গ্রামোত ৫ শতাধিক মানুষ প্রতিদিন ধনেপাতা ক্ষ্যাতে কর্ম করিয়া বউ বাচ্চা নিয়ে বাঁচি আছে। হামরা এক কেজি ধনেবীজ ৩৪০-৩৫০ টাকায় কিনে বপন করি। বিভিন্ন জায়গার পাইকাররা আসিয়া কিনিয়া নিয়া বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে পাঠায়ে দেয়।’
পাইকারি ক্রেতা ওবায়দুল ইসলাম জানান, এখানে ক্ষেত থেকে ধনেপাতা ক্রয় করি প্রতি মণ চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা আর বাজারে বিক্রি করি সাড়ে ছয় থেকে সাত হাজার টাকায়। জৈব সার দিয়ে চাষ করা মসলা সবজির চাহিদা থাকায় ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাই আমরা।
ধনেপাতার চাষ হয় বেলে দোআঁশ ও দোআঁশ মাটিতে। এ মসলার চাষাবাদে পরিশ্রম কম ও লাভজনক ফসল হওয়ায় আগ্রহ বাড়ছে এ জেলার কৃষকদের মাঝে। বিষয়টি স্বীকার করে কৃষকদের সহায়তার কথা জানালেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. সাইখুল আরেফিন। তিনি জানান, এবারে লালমনিরহাট জেলায় ১০৫০ বিঘা জমিতে ধনেপাতা চাষ হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, সরকারি সহায়তা পেলে দেশের বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানি করা সম্ভব এই ফসল। তাই সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চান এখানকার কৃষকরা, সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগের বীজ, সারসহ প্রণোদনার দাবি করেছেন চাষিরা।