× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মোরেলগঞ্জের বিষখালী নদী

অপসারণ হয়নি অর্ধশতাধিক স্থাপনা, খননকাজ বন্ধ

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫৬ এএম

২০২৩ সালের জুন-জুলাই মাসে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিষখালী নদী পুন:খনন শুরু হয়। কিন্তু নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় খননকাজ বন্ধ রাখে কতৃপক্ষ। বুধবার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পোলেরহাট বাজারের অবৈধ স্থাপনাগুলোর পাশে। প্রবা ফটো

২০২৩ সালের জুন-জুলাই মাসে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিষখালী নদী পুন:খনন শুরু হয়। কিন্তু নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় খননকাজ বন্ধ রাখে কতৃপক্ষ। বুধবার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পোলেরহাট বাজারের অবৈধ স্থাপনাগুলোর পাশে। প্রবা ফটো

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের বিষখালী নদী পুনঃখননের চলমান কাজের পোলেরহাট বাজার অভিমুখী দুই পাড়ের খননকাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের লাল চিহ্নিত অর্ধশতাধিক স্থাপনা পাঁচ দিনের মধ্যে অপসারণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পউবো) কর্তৃপক্ষের কড়া নির্দেশনা রয়েছে। আরও ১৫০টি স্থাপনায় লাল রঙ ব্যবহার করে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। ২০ দিন পূর্বে চূড়ান্ত নোটিস পেয়েও স্থাপনা সরিয়ে নেয়নি দখলে থাকা মালিকরা। এ নিয়ে দুই পাড়ের দুটি ইউনিয়নের মানুষের রয়েছে দ্বিমুখী দাবি। পোলেরহাট বাজার ব্যবসায়ীদের বাজার রক্ষার দাবি, রামচন্দ্রপুরের স্থানীয়দের প্রকল্পের ম্যাপ অনুযায়ী নদী খনন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানগুছি নদীর ভাঙন থেকে উপজেলা সদরসংলগ্ন এলাকা সংরক্ষণ ও বিষখালী নদী পুনঃখননে প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ২৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৩ দশমিক ৭০ কিলোমিটার খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলার বনগ্রামের বাধাল হয়ে দৈবজ্ঞহাটি, রামচন্দ্রপুর, বলইবুনিয়া ইউনিয়ন হয়ে পৌরসভা শহরের ছোলমবাড়িয়া পানগুছি নদীর মোহনা অভিমুখী ১৪ কিলোমিটার নদী খননের কাজটি নেয় আবুল কালাম আজাদ এন্টারপ্রাইজ নামের এক ঠিকাধারি প্রতিষ্ঠান। তারা ২০২৩ সালের জুন-জুলাই মাসে শুরু করে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা।

দৈবজ্ঞহাটি, পোলেরহাট বাজার ও পূর্বপাড়ে রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের শহীদ আ. রশিদ খান মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় খননকাজ শুরু হয়ে কিছু দিন যেতে না যেতেই হঠাৎ অদৃশ্য কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। পোলেরহাট বাজারে অধিকাংশ জায়গাজুড়ে পাকা ভবন, বসতি স্থাপনাসহ প্রায় ৬০-৭০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক ভাড়াটিয়া ভবন এ খননের মধ্যে পড়েছে। এরই মধ্যে পোলেরহাট বাজারের চিহ্নিত স্থাপনাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা দিয়েছেন পাইবো জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। 

পোলেরহাট বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান হাওলাদারসহ একাধিক মালিক বলেন, ১৯৫৫ সালে তাদেরই পূর্বপুরুষের জমিতে বাজারটি স্থাপিত হয়। মালিকদের নামে এসএ ও বিআরএস রেকর্ডমূলে সরকারের খাজনা নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে। জমির ক্রয়-বিক্রয় দলিল হয়েছে রেকর্ড অনুযায়ী। ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন এ বাজারে তিন থেকে চারটি ইউনিয়নের মানুষের সমাগম। বছরে সরকার এ বাজার থেকে লাখ লাখ টাকা রাজস্বও আদায় করে। ব্যবসায়ীরা বাজার তৎসংলগ্ন এলাকা রক্ষাসহ নদী খননের দাবি জানান। 

শহীদ আ. রশিদ খান মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার মোল্লাসহ স্থানীয়রা বলে, নদীর তীরবর্তী তাদের বাজারের সামান্য ৩০ ফুট জমি লাল চিহ্নের আওতায় রয়েছে। অপর প্রান্তে পোলেরহাট বাজারসংলগ্ন এলাকার তিনগুণ বেশি জমি খননের আওতায় রয়েছে। কিন্তু বেশি খনন করা হচ্ছে এ প্রান্ত থেকে। 

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আ. মান্নান খান বলেন, ‘পাউবো কর্তৃপক্ষের স্থাপনা অপসারণের জন্য দেওয়া পাঁচ দিনের সময় শেষ হয়েছে। উচ্ছেদের কথা থাকলেও বহাল তবিয়তে এখনও স্থাপনাগুলো। নদী খননের কাজ কী কারণে বন্ধ রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্নে দেখা দিয়েছে।’ 

পাউবো বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান মোহাম্মদ আল বিরুনী বলেন, ‘কোনো অদৃশ্য কারণে নদী খননের কাজ বন্ধ হয়নি, পাঁচ দিনের মধ্যে স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের। শুধু পোলেরহাট বাজারমুখী একটি পয়েন্টে সাময়িক কাজ বন্ধ রয়েছে। বাকি তিনটি পয়েন্টে কাজ চলছে, চিহ্নিত স্থাপনাগুলো অপসারণও কাজের একটি অংশ।’ 

ইউএনও নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিষখালী নদী খনন প্রকল্প কাজের পোলেরহাট বাজারসংলগ্ন কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। নদীর পাড়ের দুটি বাজারের স্থাপনামালিকদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে পুনরায় কাজটি শুরু হবে। পোলেরহাট বাজার সুরক্ষায় সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি বিষয় রয়েছে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা