হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৫১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
আগের বছরের চেয়ে আমদানি বেশি হওয়ার পরও কমছে না ছোলা, গম ও মসুর ডালের দাম। উল্টো আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। গত বছর একই সময়ে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে যেখানে ছোলার কেজি ছিল ৮৮-৯০ টাকা, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে তা বিক্রি হচ্ছে ১১৩-১১৫ টাকায়। এক বছর আগে খাতুনগঞ্জে ছোট দানা চিকন মসুর ডালের কেজি ছিল ১০০-১০৫ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ১২২ থেকে ১২৫ টাকায়।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি পণ্যের দাম না কমে উল্টো দিনদিন বাড়ছে। আগের বছরের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও ডলারের কারণে সেই সুফল পাচ্ছে না ভোক্তারা। তাই পণ্যের দাম কমানোর জন্য ডলারের দাম কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জের এফএম ট্রেডার্সের মালিক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দাবি করেন, গত কয়েক দিনের মধ্যে ছোলা, মসুর ডাল এবং গমের দাম খুব একটা বাড়েনি। বরং কয়েক মাস আগে বেড়ে যে দামে বিক্রি হয়েছিল, এখন তার থেকে ২-৩ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণেই এখন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পণ্যের দাম বেশি। গত বছর এমন সময়ে প্রতি ডলারের পেছনে খরচ হতো ১১৫ টাকা, এখন খরচ হয় ১২৫ টাকা। তাই জিনিসপত্রের দামও গত বছরের তুলনায় একটু বেশি। তবে বাজারে পণ্যের ঘাটতি নেই। এলসি খোলার জটিলতাও কিছুটা কমেছে। তাই পণ্য আমদানি এখন বাড়ছে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের তুলনায় গত চার মাসে ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে ৮ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন। অন্যদিকে গম আমদানি বেড়েছে ৮৪ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন। এ ছাড়া গত চার মাসে মসুর ডাল আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ মেট্রিক টন।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ১৮ কোটি ৮০ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টন ছোলা আমদানি হয়। যেখানে চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে ৯৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ১১ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন ছোলা আমদানি হয়। এ হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ হাজার ৬৮৪ মেট্রিক টন ছোলা বেশি আমদানি হয়েছে।
অন্যদিকে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে ৮৪ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন গম বেশি আমদানি হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে গম আমদানি হয়েছিল ১১ লাখ ৪১ হাজার ৬০৬ মেট্রিক টন। সেখানে চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে একই সমুদ্রবন্দর দিয়ে গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ২৫ হাজার ৭৫৯ মেট্রিক টন।
একই সময়ে মসুর ডাল আমদানিও বেড়েছে। গত চার মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৫৮ মেট্রিক টন বেশি মসুর ডাল আমদানি হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৬৬১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছিল ৬৬ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে ১ হাজার ৯৪৭ কোটি ৩৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা ব্যয়ে একই বন্দর দিয়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন।
আমদানি বাড়লেও বাজারে ছোলা, গম ও মসুর ডালের দাম বাড়তে থাকার বিষয়ে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এখন দুই ধরনের ছোলা পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ছোলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৪ টাকায়। অন্যদিকে ভারতীয় ছোলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১১৬ টাকায়। খুচরায় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৩০-১৩৫ টাকায়। অন্যদিকে খাতুনগঞ্জে এখন ইউক্রেন, রাশিয়া ও কানাডিয়ানÑ এই তিন জাতের গম পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার গম প্রতিকেজি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৩৭ টাকায়। অন্যদিকে কানাডিয়ান গম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়। এ ছাড়া খাতুনগঞ্জে বড় দানার মোটা মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৮-১০০ টাকায় এবং চিকন মসুর ডাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২২-১২৫ টাকায়।