× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ছিনতাই আতঙ্কে চট্টগ্রামবাসী, ৩০ দিনে ২৭০০ জিডি

আবু রায়হান তানিন, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৪৩ এএম

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৪২ এএম

প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের হালিশহরের মাহমুদ হাসান। গত ৪ নভেম্বর অফিস থেকে ফেরার পথে তার মোবাইলটি ছিনতাই হয়। ওই ঘটনায় জিডি করলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গাড়িতে করে ফেরার পথে অলংকার মোড় থেকে ছোঁ মেরে মোবাইলটা নিয়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই জিডি করলাম। সাত দিন পার হয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি দেখিনি। সিসিটিভি পর্যালোচনা করলে ছিনতাইকারীকে শনাক্ত করা যেত। কিন্তু সেই উদ্যোগও দেখিনি। এখন পথে-ঘাটে চলাও দায় হয়েছে।’

শুধু মাহমুদ নয়, চট্টগ্রামের নাগরিকরা এখন ভুগছে ছিনতাই আতঙ্কে। ইশতিয়াক হক নামে একজন দিনতিনেক আগে চট্টগ্রামের একটি কমিউনিটি পেজে ছিনতাই আতঙ্ক নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া লিখেছেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে টেম্পো থেকে জ্যামের মধ্যে ফোন ছিনতাই হয়। এক মাসে পরিচিত ৬-৭ জনের মোবাইল ছিনতাই হয়েছে। আজ সকালে আন্দরকিল্লা মোড় থেকে কয়েকজন মিলে এক বন্ধুর ফোনটা নিয়ে গেছে, এটাকে ছিনতাই না বলে ডাকাতি বলা ভালো। এই সমস্যার সমাধান কী? পুলিশ চাইলেই তো এসব মোবাইল উদ্ধার করতে পারে, সিন্ডিকেটগুলোকে ধরতে পারে। কিন্তু তারা কেন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।’

মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামের চার জোনের ১৬ থানায় ২ হাজার ৬৯৭টি মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে জিডি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ বিভাগে ১ হাজার ৯৪টি, উত্তর বিভাগের চার থানায় জিডির সংখ্যা ৬৮৭টি, পশ্চিম বিভাগে ৬৩৯টি ও বন্দর বিভাগে ২৭৬টি জিডি হয়েছে। অন্যদিকে অক্টোবরে মাত্র সাতটি মোবাইল উদ্ধার করতে পেরেছে দক্ষিণ বিভাগের চার থানা। যেখানে বাকি তিনটি বিভাগে মোবাইল উদ্ধারের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৭, ৩১ ও ৪৪টি। এ ছাড়া চুরির অভিযোগে ৩৪, ছিনতাইয়ের অভিযোগে ১০টি মামলা হয়েছে বিভিন্ন থানায়। এসবের বাইরে দ্রুত বিচারে ঘটনাস্থলেই আটটি ছিনতাইয়ের ঘটনার ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিউমার্কেট, আন্দরকিল্লা, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি, আগ্রাবাদ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি ছিনতাইপ্রবণ এলাকা। কয়েকটি সংঘবদ্ধ সক্রিয় চক্র এসব ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন হাত ঘুরে সাধারণত রিয়াজুদ্দিন বাজারে এসব মোবাইল বিক্রি হয়। এর বাইরে কিছু মোবাইল চক্রের মাধ্যমে কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও ঢাকায় পাঠানো হয় আর দামি মোবাইলগুলো সীমানা পাড়ি দিয়ে পাঠানো হয় ভারত ও দুবাইয়ে।

ফ্লাইওভারে রাতে সুতা বেঁধে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে দেড় মাস ধরে। তবে ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ না করায় তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই পুলিশের কাছে। ছবি তোলা কিংবা দলবেঁধে ঘোরার ভান করে এরা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অবস্থান নেয়। যখন গাড়ি চলাচল কম থাকে, তখনই মোটরসাইকেল আরোহীদের নিশানা করে তারা। যারা ছিনতাইয়ে জড়িত, তাদের বেশিরভাগই মাদকাসক্ত এবং উঠতি বয়সের ছিনতাইকারী।

মহানগর পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘ছিনতাইয়ের ঘটনাগুলো কারা করে চক্র কীভাবে কাজ করে এগুলো আসলে দীর্ঘদিন কাজ করে বের করতে হয়। এই বিষয়গুলো যাদের নখদর্পণে তারা অনেকে বদলি হয়েছেন। নতুন কর্মকর্তারা এই ব্যাপারে খুব ভালো জানেন না। পাশাপাশি তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিকেন্দ্রিক চাপ, রাজনৈতিক মামলাগুলোর চাপ থাকায় নিয়মিত ক্রাইমগুলোর ব্যাপারে মনোযোগ দেওয়ার সময় হয়ে উঠছে না। এসব কারণে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। মাঠ পুলিশকে এটা নিয়ে অনেকে দায় দিচ্ছে। তবে বাস্তবতাটা ভিন্ন। চোর ছিনতাইকারীদের মধ্যে পুলিশের ভীতিও অনেকটা নষ্ট হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ হচ্ছে না।’

চুরি ছিনতাইয়ের বিষয়টি সিএমপি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে জানিয়ে মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম) মো. রইস উদ্দিন বলেন, ‘এটাকে কীভাবে দমন করা যায় সেই বিষয়ে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এর অংশ হিসেবে সব এলাকায় মোবাইল টিম কাজ করছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই টিমগুলো বিভিন্ন এলাকায় মুভ করে, কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ক্ষেত্রে তিনটি হাইওয়ে প্যাট্রল টিম কাজ করছে। আর চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।’ তবে অন্য কাজের চাপ বেশি থাকায় নিয়মিত অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে মাঠের পুলিশের নজর দিতে না পারার কোনো সুযোগ নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের মূল কাজই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় সেটা করা যাচ্ছে না এটা বলার সুযোগ নেই।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা