রায়হানুল ইসলাম আকন্দ, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:০৯ পিএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:১২ পিএম
একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পরিমাণ কাদা জমে। আর শুকনো মৌসুমে ধুলা। ধুলায় তবু কোনোভাবে চলাচল করা যায়, কিন্তু কঠিন হয়ে পড়ে বর্ষা মৌসুমে। এমন অবস্থা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তা কাঁচাবাজার সড়কের দুই কিলোমিটার কাঁচা সড়কের। সড়কটি এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র উপায়। তাই প্রায় দুই যুগ ধরে কাঁচা সড়কটি পাকা করার দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী।
গত রবিবার সরেজমিনে সড়কটিতে দেখা যায়, কাঁচা সড়কটির এইচ এম কিন্ডারগার্টেন থেকে টেপিরবাড়ী নোভা পোল্ট্রি মোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই খানাখন্দে ভরা সড়কে পানি জমে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় সড়কটি দিয়ে চলাচলকারী হাজারও মানুষকে। বেহাল এই সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসা-যাওয়া করতে পারে না। শ্রীপুরের শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত মাওনা চৌরাস্তাসহ রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহে যাতায়াতের জন্য এটি একমাত্র সড়ক আশপাশের দুই গ্রামের বাসিন্দাদের।
টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মাওনা চৌরাস্তার কাঁচামাল ব্যবসায়ী সফির উদ্দিন বলেন, ‘সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের বিভিন্ন গর্তে হাঁটুপানি জমে যায়। ব্যস্ততম সড়কে দিন-রাত ছোটবড় যানবাহন চলাচল করে।’ স্থানীয় বাসিন্দা লিটন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগের কথা কেউ শুনে না। এ এলাকার মানুষের ভোগান্তির কথা বলে বোঝানো যাবে না। নিজ চোখে দেখতে হবে। আমরা ঠিকমতো হাট-বাজারে যেতে পারি না। কৃষিপণ্য সময়মতো বিক্রি করতে পারি না। আমাদের ছেলেমেয়েরা কষ্ট করে স্কুল-কলেজে যায়। বিশেষ করে, বর্ষা মৌসুমে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে সড়কের কাদামাটি মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। আর কতকাল এ কষ্ট করতে হবে কে জানে!’
অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন, ‘খানাখন্দে ভরা সড়কে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। পথচারীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি আমাদের ভোগান্তি হচ্ছে। বেহাল সড়কে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি হয় অন্তঃসত্ত্বা রোগীদের।’
ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এ সড়কে কোনো অ্যাম্বুলেন্স, মাইক্রোবাস, ভ্যান-রিকশা আসে না। মোটরসাইকেল, সাইকেলে তো দূরে থাক, খালি পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য। বৃষ্টির দিনে গ্রামের কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো যানবাহন ও অ্যাম্বুলেন্সও সড়কে ঢুকতে চায় না।’ মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নূসরাত, লিমন ও সাইদুল বলে, প্রতিদিনই আমাদের এ সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আসা-যাওয়ার সময় যখনই এই পথটুকুর কথা মনে পড়ে, তখনই মনটা খারাপ হয়ে যায়। বিরক্তি আর তিক্ত অভিজ্ঞতা এখানে আমাদের।
মাওনা চৌরাস্তা ইয়াকুব আলী মাস্টার টাওয়ারের ব্যবসায়ী ইউসুফ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রচুর কৃষিপণ্য উৎপাদন হয়। সড়কের বেহাল দশার কারণে কৃষকেরা সময়মতো কৃষি ফসল বাজারজাত করতে না পেরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যায়। আশা করি, খুব তাড়াতাড়ি এর একটা সমাধান হবে এবং জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সড়কটি পাকা করা জরুরি।’
শ্রীপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুছ ছামাদ পত্তনদার বলেন, ‘সড়কটি প্রকল্প আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলেই দরপত্র আহ্বান করা হবে।’