× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শ্রমিকদের টানা তিন দিনের অবরোধে ভোগান্তি, ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

গাজীপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:৪১ এএম

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ১১:৪৭ এএম

টানা তিন দিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রবা ফটো

টানা তিন দিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। প্রবা ফটো

গাজীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো চলছে শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচি। তিন দিন ধরে চলা অবরোধে অচল হয়ে পড়েছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। অবরোধের কারণে মহাসড়কে টঙ্গী থেকে মাওনা পর্যন্ত প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলায় যাতায়াতকারীরা। পাশাপাশি ক্ষুব্ধ চালক, এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষ।

গাজীপুর মহানগরের মোগরখাল এলাকায় টিএনজেড গ্রুপের ছয়টি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শনিবার সকাল থেকে টানা তিন দিন ধরে ব্যস্ততম এ সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। অবরোধ নিরসনে পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা বারবার চেষ্টা করেও সমাধান করতে পারছে না।

সোমবার (১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন শ্রমিকরা। আন্দোলনে শনিবার থেকে পর্যায়ক্রমে শ্রমিকরা ভাগ করে অবস্থান করছেন। দুই থেকে আড়াইশ শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলেও উৎসুক জনতা ও সাধারণ মানুষের কারণে তাদের আলাদা করা কঠিন। এদিকে টিএনজেডের শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে আশপাশের ১৫-২০টি কারখানা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

সাধারণ মানুষ বলছে, সবকিছুর একটা সীমা থাকা দরকার। দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক আজ তিন দিন ধরে বন্ধ। এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। মানুষ চলাচল করতে পারছে না। দূরপাল্লার কোনো গাড়ি চলছে না। রোগী নিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত যাওয়া যাচ্ছে না। কার্যত অচল হয়ে গেছে গাজীপুর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদসরা কী করে। যেকোনো মূল্যে এদের মহাসড়ক থেকে না সরালে সাধারণ মানুষ ও চালকরা পদক্ষেপ নিতে পারে।

ময়মনসিংহ থেকে চাঁদপুরগামী হায়দার নামে এক ট্রাকচালক বলেন, ‘দুই দিন ধরে সড়কে রয়েছি। কোথাও যেতে পারছি, নড়তেও পারছি না। অনেক ট্রাকে পচনশীল পণ্য রয়েছে। যাত্রীবাহী বাস থেকে যাত্রীরা নেমে গেছে দুই দিন আগে কিন্তু বাস আগের স্থানেই রয়েছে। খুব বিরক্ত হয়ে গেছি ভাই।’

নিপা সরকার নামে একজন বলেন, ‘গাজীপুর থেকে ময়মনসিংহ যাওয়া খুব দরকার। যানজটের কারণে যেতে পারছি না। কবে রাস্তা ঠিক হবে কেউ বলতে পারছে না। শ্রমিকদের দাবি মেনে নিলেই তো হয়।’

শাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘অবিলম্বে ওই গার্মেন্টসের মালিককে গ্রেপ্তার করা হোক। মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছে। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে। এটা কোনো কথা, তিন দিন ধরে রাস্তা বন্ধ! সরকার চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে পারে।’

পুলিশ ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, মহানগরের মালেকের বাড়ী এলাকায় অবস্থিত টিএনজেড অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিকদের তিন মাসের বেতন বকেয়া। শ্রমিকরা বেতন দাবি করলেও কর্তৃপক্ষ কালক্ষেপণ করছে। ২৮ অক্টোবর শ্রমিকরা আন্দোলন করলে শিল্পপুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে শান্ত করেন। তখন পুলিশ জানায়, নভেম্বরের ৩ তারিখ বেতন পরিশোধ করা হবে। সেদিন শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর ৫ নভেম্বর আবার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করলে শিল্পপুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এ বিষয়ে সমাধান করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যান। তবে মাসের ৯ তারিখ হয়ে গেলেও শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছেন না। তা ছাড়া কারখানা বেশ কিছুদিন ধরে বন্ধ আছে। এসব কারণে শনিবার সকাল থেকে আবারও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা।

এদিকে প্রথম দিন থেকেই শ্রমিকরা বলছেন, ‘আমরা তিন মাসের বেতন পাই এটা আমাদের ন্যায্য দাবি। কোনো আশ্বাস মানি না, বেতন দিলেই রাস্তা ছাড়ব।’

শ্রমিকনেতা ও অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সংগঠক আরমান হোসাইন বলেন, ‘আমরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেছি, তাদের ধৈর্য ধরতে বলেছি। তারা বলেছেন তিন মাস ধৈর্য ধরেছি, আর না। আমাদের কথা হচ্ছে মহাসড়ক অবরোধ রাখায় যে ভোগান্তি হচ্ছে এটি দ্রুত সমাধান করা। আশুলিয়া আর গাজীপুর মিলে ৮-১০টা কারখানায় মূলত ঝামেলা দেখছি। তাদের পাওনাও খুব বেশি না। প্রয়োজনে ওইসব মালিকরা কিছু সম্পদ বিক্রি করে হলেও পাওনা পরিশোধ করুক। আজ আমরা আবারও শ্রমিকদের সঙ্গে বসব।’

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ইব্রাহিম খান প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শ্রমিকদের বোঝানো হয়েছে কিন্তু কোনো কথাই শোনে না। তারা বেতন না নিয়ে মহাসড়ক ছাড়বে না। তাদের আজও বোঝানো হচ্ছে। যেহেতু দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে, এজন্য আপাতত বিকল্প যে রাস্তা রয়েছে তা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা