পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ০৯:০০ এএম
আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৪ ১০:৫৫ এএম
সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারসহ নিখোঁজ ১৯ জেলে অবশেষে তিন দিন পর অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন। রবিবার (১০ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় অপহৃত জেলেদের বহন করা ফিশিং ট্রলারটি কুতুবদিয়ার আকবর বলী ঘাটে ফিরলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা তাদের গ্রহণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইউএনও ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা।
পরে তাদের পরিবারে হস্তান্তর করা হয়। নিখোঁজ জেলেরা অক্ষত অবস্থায় ফিরে আসায় স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে।
জানা যায়, জলদস্যুরা ফিশিং ট্রলারটি বিকল করে এসব জেলেকে সাগরে রেখে চলে যায়। সকালে ভাসমান অবস্থায় ট্রলারটি পেয়ে অন্য একটি ফিশিং ট্রলার উদ্ধার করে কুতুবদিয়ায় নিয়ে আসে।
বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) রাতে মহেশখালীর সোনাদিয়া দ্বীপের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুরা মাছ ধরার ‘আল্লাহর দয়া’ নামে ফিশিং ট্রলারে ডাকাতি করে। এ সময় ট্রলার মাঝি মোকাররম হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ মাঝিকে নিয়ে ফিশিং ট্রলারের জেলে জয়নালকে উপকূলে পৌঁছে দেন তারা। পরে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে মাঝি মোকাররম হোসেনের মৃত্যু হয়।
উদ্ধার ১৯ জেলে হলেন উপজেলার উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়ার মনছুর আলম, জমির বাপের পাড়ার শাহ আলম, রুহল আমিন ও নয়ন, চাটিপাড়ার নাছির উদ্দীন, শাহজাহান, আব্বাস উদ্দিন ও তৌহিদ, কাইসার পাড়ার প্রকাশ শুনাইয়া ও রেজাউল করিম, ফরিজ্যার পাড়ার গিয়াস উদ্দিন, মেহেদি হাসান, সাকিব, ইদ্রিস ও সায়েদ, কুইলার পাড়ার সাগর, দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের মশরফ আলী বলীর পাড়ার কালু ও রুবেল। তবে নোয়াখালীর এক জেলের নাম জানা যায়নি।
বাঁশখালী শেখেরখীল এলাকার মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, জলদস্যুরা তার ফিশিং ট্রলারের মেশিন বিকল করে ১৯ জেলেকে নিয়ে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ছেড়ে দেয়। ফিশিং ট্রলারটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলে মাঝির সহকারী শাহ আলম তাকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে তার ফিশিং ট্রলারটি নিয়ে আসার জন্য কুতুবদিয়া থেকে আরও একটি ফিশিং ট্রলার পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত জলদস্যুরা কোনো ধরনের মুক্তিপণ দাবি বা যোগাযোগ করেনি।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, অপহৃত ১৯ জেলেকে আকবর বলী ঘাট থেকে রিসিভ করে তাদের পরিবারে হস্তান্তর করা হয়েছে।