সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৫ পিএম
আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২ ১৯:৪৫ পিএম
সিলেটের সুরমা নদীর ওপর নির্মিত ক্বিন ব্রিজের পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
শনিবার (২৬ নভেম্বর) বিকালে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-এয়ারপোর্ট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ সংশ্লিষ্টরা।
ড. মোমেন বলেন, ক্বিন ব্রিজ অনেক পুরনো হয়ে গেছে। এটা রেখে পাশে সুরমা নদীর ওপর আরেকটা ব্রিজ করা হবে। এর পরিকল্পনা শেষ করে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ শুরু হবে। সেতুটি নির্মিত হলে নগরের যানজট অনেক কমে আসবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৭২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চারলেনের বাইপাস সড়কের নির্মাণ কাজ শেষে নগরীর ভেতর দিয়ে বাইরের যানবাহন চলাচল বন্ধ হলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজট কমে আসবে। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শেষের কথা রয়েছে।
১৯৩৩ সালে সুরমা নদীর ওপর প্রথম লোহার ব্রিজ নির্মাণ শুরু হয়; যা সিলেট শহরের উত্তর ও দক্ষিণ তীরকে সংযুক্ত করে। ১৯৩৬ সালে পারাপারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া ব্রিজটি তৎকালীন অবিভক্ত ভারতবর্ষের আসাম প্রদেশের গর্ভনর মাইকেল ক্বিনের নামে নামকরণ করা হয়েছিল।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হামলায় ব্রিজটি ক্ষতিগ্রস্থ হলে স্বাধীনতার পর সংস্কার করা হয়। সম্প্রতি দেশের প্রাচীণতম এই সেতুর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুরমা নদীর উত্তর তীরে ক্বিন ব্রিজ সংলগ্ন আলী আমজদের ঘড়ি, সারদা হল ও সার্কিট হাউজ নগরীর অন্যতম দর্শণীয় স্থান।
নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত সুরমা নদীর দুই প্রান্তের মানুষের পারাপারের জন্য ক্বিন ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিমে যথাক্রমে শাহজালাল ও কাজিরবাজার সেতু রয়েছে।
চারদলীয় জোট সরকারের সময় ক্বিন ব্রিজ ভেঙে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ঐতিহ্যবাহী সেতুটি ভেঙে ফেলার বিপক্ষে জনমত সৃষ্টি হলে সুরমা নদীতে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কথাও আলোচনা আসে।
বর্তমান সরকারের আমলে এসে কাজিরবাজার সেতুর নির্মাণ কাজ শেষে তা যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে রেলওয়ে স্টেশন ও কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে যাতায়াতের জন্য ক্বিন ব্রিজ সবচেয়ে সুবিধাজনক।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (একনেক) নির্বাহী কমিটির সভায় ৭২৭ কোটি ৬৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে কুমারগাঁও-বাদাঘাট-বিমানবন্দর সড়ক চারলেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন হয়।