দইখাওয়া আদর্শ কলেজ
লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:১৪ পিএম
আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৪ ১৮:২৬ পিএম
সম্পাদনা- খান মিজান পৃষ্ঠা ৮-৯
ওকে/হারুন
সবজি ও ডালের খিচুড়ি। সঙ্গে একটি ডিম। মাত্র ১০ টাকায় দুপুরে এই খাবার মেলে শিক্ষার্থীদের। এতে খিদে মিটিয়ে, ক্লান্তি দূর করে তারা পড়ালেখায় মনোযোগী হতে পারেন আরও বেশি। কেবল শিক্ষার্থীরা নয়, একই সুবিধা পান শিক্ষকরাও।
টেন টাকা ফুড নামের ক্যান্টিন চালু করে শিক্ষার্থীদের জন্য অল্প টাকায় এ খাবারের আয়োজন করেন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত দইখাওয়া আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জাল হোসেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কলেজটি হওয়ায় এখানকার বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর দূরের উপজেলা শহরে শিক্ষার জন্য যেতে হচ্ছে না। কলেজের ৯০ ভাগ শিক্ষার্থীর বসবাস দারিদ্র্যসীমার নিচে। তারা সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে অনেকেই সঙ্গে খাবার নিয়ে আসতে পারে না। তাই পাঁচ বছর আগে এ আয়োজন করেন কলেজ অধ্যক্ষ।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, অধ্যক্ষের নিজের টাকা আর বাইরের দু-একজন বন্ধুর সহযোগিতায় চলে ১০ টাকার ফুড ক্যান্টিনটি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে খাবার জোগান দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় কলেজ অধ্যক্ষের।
সূত্র জানায়, কলেজটিতে
মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭০০। তারা দুপুরে ১০ টাকায় খাবার পেয়ে অনেক খুশি। একই সঙ্গে
তারা পড়ালেখায় আরও মনোযোগী। কলেজের শিক্ষার্থী মৃন্ময় সজল বলেন, আমাদের কলেজে একটি
মানসম্মত ক্যান্টিন রয়েছে। এর ফলে বাইরের কোনো খাবার খেতে হয় না। এজন্য আমাদের অধ্যক্ষ
স্যারকে ধন্যবাদ জানাই।
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টায় কলেজ ফটকে প্রবেশের সময় ১০টাকা দিয়ে একটি
টিকিট সংগ্রহ করেন তারা। দুপুর ১টায় ওই টিকিট দিয়ে তারা ক্যান্টিনে খাবার পান।
ক্যান্টিনে রান্নার দায়িত্বে থাকা মনোয়ারা বেগম বলেন, বাচ্চাদের রান্না করে খাওয়াই।
আমার অনেক ভালো লাগে। পাঁচ বছর ধরে রান্না করি। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন বাচ্চাকে
রান্না করে খাওয়াই।
দইখাওয়া আদর্শ কলেজের
অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, কলেজটি সীমান্তবর্তী এলাকায় হওয়ায় অনেক দূর থেকে শিক্ষার্থীরা
সকালে না খেয়ে সাইকেল চালিয়ে কলেজে আসে। সারা দিন কলেজে থেকে অনেকেই অসুস্থ ও ক্লান্ত
হয়ে পড়ে। সেই দিকটা বিবেচনা করে ২০১৮ সালে এই ১০টাকার ক্যান্টিন চালু করি। তবে বর্তমানে
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি হওয়ায় ১০ টাকায় তাদের একবেলা খাওয়ানো খুব কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
যদি বিত্তবানরা এগিয়ে আসত তাহলে খাবারে শিক্ষার্থীদের আমিষসহ পুষ্টির জোগান দেওয়া যেত।