প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৩১ পিএম
আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৩৬ পিএম
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে দুই দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব সূর্যপূজা (ছটপূজা)। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয় পূজা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদীর পূর্বতীরে শুরু হয় সূর্য পূজা।
স্বামী, সন্তান ও সংসারের মঙ্গল কামনায় সূর্য দেবতার কৃপা লাভের আশায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নারীরা নিজ নিজ বাড়ি থেকে কুলাভর্তি ফলমূল, নিজেদের তৈরি মিষ্টান্ন, আটার তৈরি ঠেকুয়া ও খাজতাসহ বিভিন্ন প্রসাদ সাজিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে ছোট যমুনা নদীর তীরে হাজির হয়। সূর্য দেবতার কৃপা লাভের আশায় সূর্যের দিকে তাকিয়ে প্রার্থনা করেন উপোস থাকা নারীরা। সূর্যাস্তের পর কুলার প্রসাদ ডালায় তুলে নিয়ে ফিরে যান বাড়িতে। পরদিন শুক্রবার রাত ২টার পর থেকে আবারও ফিরে আসে নদীর তীরে। কুলার প্রসাদ সাজিয়ে প্রতীক্ষায় থাকেন সূর্য ওঠার জন্য।
এদিকে, সূর্যপূজাকে কেন্দ্র করে ছোট যমুনার তীরে দুই দিনব্যাপী বসেছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলা। ঢাক আর ঢোলের তালে মুখরিত ছিল নদীতীরের পূজাস্থল। আলোক ঝলমল আলোকসজ্জাসহ কিশোর-কিশোরীদের আতশবাজিতে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো পূজা এলাকা। অপরদিকে, সূর্য ওঠার পর থেকেই নদীতীরে নারীরা সূর্য দেবতার কৃপালাভের জন্য নদীতে স্নান করেন। স্নান শেষে কুলায় ভর্তি প্রসাদ নিয়ে অর্ঘ্য দেন সূর্য দেবতার উদ্দেশে। প্রসাদ অর্ঘ্য শেষে বিবাহিত নারীরা একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় শ্রীশ্রী শ্যামা কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি অধ্যাপক অমর চাঁদ গুপ্ত অপু বলেন, সূর্য উপাসনার উৎসব ভারতের বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশ ও নেপালের অবাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পালন করে থাকেন। এর ধারাবাহিকতায় যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের সব স্থানেই স্থানীয়ভাবে এই সূর্যপূজা বা ছটপূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
ফুলবাড়ী কেন্দ্রীয় কালী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত শ্রী সুদামা উপাধ্যয় বলেন, মূলত অবাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীরা তাদের স্বামী, সন্তান ও সংসারের মঙ্গল কামনায় সূর্য দেবের কৃপা লাভের আশায় নদীতীরে সূর্য্পূজা (ছটপূজা) করে থাকেন। এই পূজা ভগবান শ্রী রামের স্ত্রী সীতা এবং পার্বতী দেবীও পালন করেছিলেন।