টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:১৩ পিএম
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪ ১৯:৪৩ পিএম
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, প্রাকৃতিক বনে সামাজিক বনায়ন করা যাবে না। সামাজিক বনায়নের গাছগুলো কেটে উপকারভোগীদের মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়। বনবিভাগের দায়িত্ব টাকা বিতরণ করা না, তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে প্রাকৃতিক বনকে রক্ষা করা।
বুধবার (৬ নভেম্বর) টাঙ্গাইলে ‘আন্তর্জাতিক পরিবেশ সম্মেলন- ২০২৪’ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের ব্যুরো বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা মনে করেন, বনায়নে ইউক্যালিপটাস ও একাশিয়া (আকাশমণি) নয়, দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো জরুরি।
তিনি বলেন, কৃষকের অধিকার বন বিভাগে নিশ্চিত করতে হবে। বন বিভাগ ও কৃষকের মধ্যে দ্বন্দ্ব দূর করতে হবে। বন, বনবাসী ও বন্য প্রাণী একসঙ্গে শান্তিতে সহাবস্থান করবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন থেকে কৃষি খাতকে রক্ষা করতে হবে। ভোগবাদী অর্থনীতির মডেল অনুসরণ করা যাবে না। দিনদুপুরে বাতি জ্বালিয়ে জ্বালানির অপচয় বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রের ওপর চাপ কমাতে হবে। পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকি। দূষণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষার জন্য আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রভাব থেকে রক্ষায় জনগণের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; ব্যক্তিগত এবং সামষ্টিক উদ্যোগ প্রয়োজন।
তরুণ প্রজন্মকে এ উদ্যোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরিফা হক, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদুল হক, আসপাডা পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক লায়ন এম এ রশীদ, রিভারাইন পিপলের মহাসচিব শেখ রোকন, সবুজ পৃথিবীর সাধারণ সম্পাদক শহীদ মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ব্যুরো বাংলাদেশের ডিরেক্টর অপারেশন্স-ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এইচআরডি অ্যান্ড আইসিটি ফারমিনা হোসেন।
আন্তর্জাতিক এ পরিবেশ সম্মেলনে ইন্ডিয়া, নেপাল, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পরিবেশ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা পরিবেশ কর্মীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
‘গণশুনানির মাধ্যমে এলাকা ভিত্তিক প্রকল্প নেওয়া হবে’
এদিকে একই দিন বিকেলে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা হার্ড পয়েন্ট এলাকায় বাঁধ পরিদর্শন করেন পরিবেশ উপদেষ্টা।
বাঁধ পরিদর্শনকালে তিনি জানান, এখন থেকে এলাকা ভিত্তিক গণশুনানির মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি শুনানিতে আমি নিজে উপস্থিত থাকব। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, আজকের তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। পরিবেশবান্ধব দেশ গঠনে তাদের অবদান রাখতে হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে তরুণ প্রজন্মকে সমস্যা সমাধানে চিন্তাভাবনা করতে হবে। সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।
তিনি সতর্ক করেন, নদী তীরবর্তি শিল্পপার্ক ইকোনমিক জোনসহ যেকোনো ধরনের মিল কলকারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পানি দূষণ না হয়, সে বিষয়ের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। শুধু তাই নয়, নদীতে জেগে ওঠা চরগুলোতে ভাঙ্গন কবলিত বা গৃহহীন মানুষকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ সময় সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গণপতি রায়, সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুন অর রশিদ খান হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোয়ার হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধতন কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন।